২৯ এপ্রিল, বুধবার রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দ্বিতীয় দফা। তার আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের খাগড়াগড়ে পৌঁছল এনআইএ। সঙ্গে ছিল পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।
২০১৪ সালের ২ অক্টোবর খাগড়াগড়ের যে বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, মঙ্গলবার বিকেলে সেই বাড়িতেই পৌঁছয় এনআইএ-র তিন সদস্যের একটি দল। স্থানীয় সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা বাড়িটির ছবি তুলেছে। কথা বলেছেন বাড়ির মালিকের সঙ্গেও।
প্রসঙ্গত, ১২ বছর আগে দুর্গাপুজোর সময়ে বর্ধমান শহর লাগোয়া খাগড়াগড়ের ওই বাড়িতে বোমা বাঁধার সময়ে তীব্র বিস্ফোরণ হয়। তাতে মৃত্যু হয় দু’জনের। গুরুতর জখম অবস্থায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন আরও এক জন। ওই ঘটনায় উঠে আসে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর নাম। পরে তদন্তভার যায় এনআইএ-র হাতে। বাড়ির মালিকের নাম ছিল হাসান চৌধুরী। মঙ্গলবার তাঁরই খোঁজ করেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, বাড়ির ভিতর থেকে তাঁদের জানানো হয়, হাসানের মৃত্যু হয়। এর পর হাসানের ছেলে, পেশায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক আসরাফ আলি চৌধুরীকে বাইরে ডেকে কথা বলেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের খবর, আসরাফের ল্যাপটপ আগেই বাজেয়াপ্ত করেছিল এনআইএ। তাঁর সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি এলাকার আরও অনেকের সঙ্গেই কথা বলেন তদন্তকারীরা। খাগড়াগড়ের বাসিন্দা শেখ কাসিম বলেন, ‘আমাদের যা অবস্থা হয়ে গিয়েছে, গোটা দেশে এ বার যা হবে, এখানে সবাই চলে আসবে। এটা তো জঙ্গিদের ঘাঁটি মনে করছে সরকার।’ এর পরেই হাতজোড় করে বলেন, ‘মিডিয়ার দৌলতে সবাই ভাবছে, খাগড়াগড় মানেই জঙ্গি ঘাঁটি। দয়া করে এ বার অন্তত আপনারা এই অফিসারদের জানান, এখানে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার থেকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বড় আধিকারিকেরাও থাকেন। অনেক ভালো মানুষ থাকেন। যেটা হয়েছে সেটা একটা দুর্ঘটনা ছিল।’ লাকুর্ডির এক বাসিন্দা মণিমালা সাহা বলেন, ‘আমাদের এখানে আগের বার ভোটের পরে কী অশান্তি হয়েছিল, সেই সব জানতে চাইছিল।’ কাঞ্চননগরের বাসিন্দা সুদেব দাস বলেন, ‘এখানে কী ভাবে অশান্তি হয়েছিল আগের বারে ভোটের পরে, তখন পুলিশ কী করেছিল, সে সব জানতে চাইছিল।’ খাগড়াগড় ছাড়াও পূর্ব বর্ধমানের ভাতার, বামসোর, বলগোনা এলাকায় যান তদন্তকারীরা।
মঙ্গলবার এনআইএ-র চার সদস্যের একটি দল গিয়েছে ভাটপাড়া এবং জগদ্দলেও। গত ২৬ এপ্রিল জগদ্দল থানার সামনে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ, সেখানে বোমা ও গুলি চলেছিল। তাতে ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী পবন সিংয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান গুলিবিদ্ধ হন। সূত্রের খবর, তদন্ত করতেই সেখানে গিয়েছে এনআইএ।
সূত্রের খবর, এনআইএ-র দল হুগলি এবং নদিয়ার একাধিক জায়গাতেও গিয়েছে। যদিও এই অভিযানের কারণ স্পষ্ট নয়। এর সঙ্গে ভোটের সরাসরি কোনও যোগাযোগ আছে কি না, স্পষ্ট নয় তা-ও। পুলিশের একাংশ একে রুটিন অভিযান বলেই মনে করছেন। অন্য একটি অংশের মত, এই অভিযানের সঙ্গে ভোটের সরাসরি কোনও যোগাযোগ নেই। এনআইএ-র তরফেও এ ব্যাপারে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।