• কেউ কাছা গলায়, কেউ শিশু কন্যাকে নিয়ে হাজির!‌
    আজকাল | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • মিল্টন সেন, হুগলি, ২৮ এপ্রিল: সম্প্রতি মারা গিয়েছেন মা। তবু রেহাই নেই। কাছা পরেই ভোটের ডিউটিতে যোগ দিয়েছেন জিতেন্দ্রনাথ গড়াই। অন্যদিকে ছোট্ট শিশু কন্যা মা ছাড়া থাকতে পারে না। দেখাশোনা করারও কেউ নেই। তাই ছোট্ট শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়েই ভোটের ডিউটিতে যোগ দিলেন সামিমা বেগম। বুধবার রাজ্যে শেষ দফার ভোট। হুগলি সহ একাধিক রাজ্যে রয়েছে ভোট। হুগলির ১৮ টি বিধানসভায় ভোট রয়েছে বুধবার। 

    ভোটের আগের দিন সকাল থেকেই ডিসিআরসি গুলিতে লম্বা লাইন ভোট কর্মীদের। এখান থেকে ইভিএম, ভিভি প্যাড সহ ভোটের সব সরঞ্জাম সংগ্রহ করছেন ভোট কর্মীরা। এরপর নির্বাচন কমিশনের গাড়ি করে প্রত্যেকে পৌঁছে যাবেন নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রে। প্রথম দফায় বাঁকুড়ায় ভোটের ডিউটি পড়েছিল জিতেন্দ্রনাথ গড়াইয়ের। সম্প্রতি তাঁর মাতৃবিয়োগ হয়েছে। মঙ্গলবার ১৪ দিন হল। বুধবার রয়েছে ঘাট কাজ। কিন্তু কিছুতেই রেহাই মিলল না। বাঁকুড়ার পর এবার দ্বিতীয় দফায় চুঁচুড়াতে তাঁর ভোটের ডিউটি পরেছে। তাই হুগলি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজে ডিসি আরসিতে মঙ্গলবার তাঁকে দেখা গেল। বাঁকুড়া গঙ্গাজল ঘাটির বাসিন্দা গজেন্দ্রকুমার গড়াই ডিভিসিতে কাজ করেন। প্রথম দফার ভোটে রানীবাঁধে ডিউটি করেছেন। দ্বিতীয় দফায় তাঁকে দেওয়া হয়েছে চুঁচুড়ায়। গজেন্দ্র বাবুর সহকর্মী গিরিধারী বাদ্যকরের ডিউটি পরেছে চুঁচুড়ায়। তারা দু’‌জনে ট্রেনে করে চুঁচুড়া এসে পৌঁছন। গিরিধারী বলেন, যাতায়াতের জন্য কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। প্রথম দফার ভোটে কোতুলপুরে তিনি ডিউটি করেছেন। এবার তাঁকে চুঁচুড়াতে ডিউটি দিয়েছে। বলেছে রিজার্ভে রাখবে। কি করবে এখনও তিনি জানেন না। গজেন্দ্রকুমারের মাতৃবিয়োগের ঘটনা সকলেরই জানা। তবুও তাঁকে দু’‌দুবার ভোটে ডিউটি দেওয়া হল।

    অন্যদিকে ছোট্ট শিশু সুমাইয়া মাকে ছাড়া থাকতে পারে না। রাতে তো মাকে ছাড়া ঘুমাবেই না। কিন্তু মায়ের নির্বাচনে ডিউটি পরেছে। তাই মায়ের হাত ধরে সেও ডিউটিতে হাজির। পোলবার রাজহাটের বাসিন্দা সামিমা খাতুন। দাঁড়পুর জুনিয়র বেসিক স্কুলের শিক্ষিকা তিনি। ভোটের ডিউটি করতে ডিসি আরসিতে এসেছেন তিনি। সঙ্গে চার বছরের মেয়ে সুমাইয়া। মাকে ছাড়া সে থাকতে পাড়ে না। মা ভোটের কাজে যাবে শুনে কান্নাকাটি করায় শরীরটা একটু খারাপ হয়েছে মেয়ের। তাই মেয়েকে নিয়েই চলে এসেছেন মা। মঙ্গলবার ডিসিআরসিতে ঢোকার সময় কর্মরত কেন্দ্রীয় বাহিনী সামিমা দেবীকে বলেন এত ছোট শিশু। ভেতরে খুবই গরম। তাছাড়া ভেতরে শিশু যাওয়ার অনুমতি নেই। সামীমা দেবী তাঁর অসুবিধের কথা কর্মরত সিআরপিএফ কর্মীকে জানান। তার পর মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। শিক্ষিকা জানিয়েছেন, তাঁকে রিজার্ভে রাখা হবে। কিন্তু ভোট হবে বুধবার। আজ থেকে তাঁকে থাকতে হলে মেয়ের কি হবে?‌ সেই কথা ভেবেই মেয়েকে তিনি সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।

     
  • Link to this news (আজকাল)