• তৃণমূলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় দফা, কেন? সহজ হিসেব দেখে নিন
    আজ তক | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • রাত পোহালেই ভোটের 'মহাষ্টমী'। পুরনো হিসেব-নিকেশের নিরিখে এই দফার ৭ জেলা তৃণমূলে হাতের মুঠোতেই ছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই ৭টি জেলার মধ্যে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় BJP ছিল শূন্য। ফলে ছাব্বিশে সেই শক্ত মুঠো আলগা করার সবরকম প্রয়াস করে চলেছে BJP। আর তেমনটা না করতে পারলে এবারও যে পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটবে না, তা সকলেরই জানা। ২০২১ সালে দ্বিতীয় দফার ১৪২ আসনের নিট ফল ছিল TMC ১২৩ আর BJP ১৮।  

    ২০১১ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আসনে ৩ বার জিতেছেন। ২০১১ ও ২০২১ সালের উপনির্বাচন এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। দুই উপনির্বাচনেই তিনি ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন। এবার তিনি মুখোমুখি হচ্ছেন BJP-র শুভেন্দু অধিকারীর। 

    গত ১৫ বছরে (উপনির্বাচন এবং লোকসভা নির্বাচন মিলিয়ে) অনুষ্ঠিত ৮টি নির্বাচনের মধ্যে ৭বারই এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। তবে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভায় দলটি BJP-র থেকে ১৮৫ ভোটে পিছিয়ে পড়ে। 

    উপনির্বাচনের বড় জয়ের পাশাপাশি, ২০১১ সালে প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃণমূল এই আসনটি জেতে। তবে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভোট ৪৮ শতাংশের নীচে নেমে যায়। ৩টি লোকসভা নির্বাচনেও দলের ভোটের হার কিছুটা কমেছে।

    ভবানীপুর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ও শেষ দফায় ভোটগ্রহণ হওয়া ১৪২টি বিধানসভা আসনের একটি। এই আসনগুলির বেশিরভাগই পড়ে প্রেসিডেন্সি অঞ্চলে, যার মধ্যে রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা এবং নদিয়া।

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এই অঞ্চলের ৯৬টি আসন জেতে, যেখানে BJP পায় মাত্র ১৪টি আসন। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে BJP কিছুটা উন্নতি করে এবং ২১টি বিধানসভায় এগিয়ে ছিল। 

    বছরের পর বছর তৃণমূলের পক্ষে পড়েছে সংখ্যালঘু ভোট। তবে এবারে একটি নতুন ফ্যাক্টর হল SIR। দুই ২৪ পরগনায় ১২ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে, আর কলকাতায় প্রায় ৭ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। দুই ২৪ পরগনায় উল্লেখযোগ্য মাতুয়া জনসংখ্যাও রয়েছে।

    মোট ১৪২টি আসনের মধ্যে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ১২৩টি আসন জেতে এবং ৪৯.২ শতাংশ ভোট পায়। BJP ৩৬.১ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৮টি আসনে জেতে, আর অন্যান্যরা পায় ১টি আসন। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ৩টি নির্বাচনে তৃণমূলের ভোট ৪৮ শতাংশের উপরে রয়েছে। অন্যদিকে, BJP-র ভোট শেয়ার ২০১১ সালে ৪ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে ৩৬ শতাংশে পৌঁছয়। 

    অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে লড়াই করছে ১ হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশ মহিলা। ২৩ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ২০ শতাংশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে। 

    ADR জানিয়েছে, ১৪২টি আসনের মধ্যে ৬৩টিতে ৩ বা তার বেশি প্রার্থী রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে। ফলে এগুলিকে রেড অ্যালার্ট কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রার্থীদের গড় সম্পত্তির পরিমাণ ১.২১ কোটি টাকা এবং ২২ শতাংশ প্রার্থী ১ কোটির বেশি সম্পত্তির কথা ঘোষণা করেছেন হলফনামায়। 

     
  • Link to this news (আজ তক)