উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক করে নিয়ে এসেছে নির্বাচন কমিশন। তার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এ বার তাঁকে অপসারণ করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে মামলা। বুধবার, রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। তার আগে মঙ্গলবার রাতেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে এই মামলা দায়ের করেছেন আদিত্য দাস নামে এক ব্যক্তি। আবেদনকারীর দাবি, অজয় পাল শর্মার কাজ পক্ষপাতদুষ্ট। একটি নির্দিষ্ট দলের হয়ে তিনি কাজ করছেন বলেও অভিযোগ। একই সঙ্গে নির্বাচনে প্রার্থীকে হুমকি দেওয়া এবং সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এই কারণে অবিলম্বে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার দেওয়ার দাবি করা হয়েছে আবেদনে।
ডাকাবুকো পুলিশ অফিসার হিসেবে খ্যাতি রয়েছে অজয়ের। উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) তিনি ‘সিংহম’ নামে খ্যাত। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁকে উড়িয়ে নিয়ে এসেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। তবে তার মধ্যেই একাধিক অভিযোগ উঠেছে অজয়ের বিরুদ্ধে। সোমবার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির শেখের বাড়িতে গিয়েও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমন কি বাড়িতে ঢুকে হুমকি দেওয়ার এবং শ্লীলতাহানি করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই নিয়ে মঙ্গলবার ফলতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এক গৃহবধূ। এরই সঙ্গে স্বল্পবসনা এক নতর্কীর সঙ্গে নাচার একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে যাকে দেখা গিয়েছে তিনিই উত্তরপ্রদেশের এই IPS অফিসার বলে দাবি করা হয়েছে।
আর, এরই মধ্যে তাঁকে অপসারণ করার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার একই দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা হয়েছিল। তবে এই নিয়ে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হননি বিচারপতিরা। ভোটের দিন পর্যন্ত এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
অন্য দিকে, অজয় পাল শর্মা ইস্যুতেই দেখা গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এই নিয়ে দিল্লির মন্দির মার্গ সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra) বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ভুয়ো এআই ভিডিয়ো’ ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োতে অজয় পাল শর্মা (Ajay Pal Sharma)-র ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার জন্য এই কাজ করা হয়েছে বলেও দাবি অভিযোগকারীর। এই নিয়ে পদক্ষেপ করার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে ভিডিয়োটি সরানোরও দাবি তোলা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। মহুয়া নিজেও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।