জঙ্গি হানার পরও কাশ্মীর থেকে মুখ ফেরাননি দক্ষিণের সিমেমা নির্মাতারা
বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছিল কাশ্মীর। পর্যটকদের আগমন। সিনেমার শ্যুটিং। সবই শুরু হয়েছিল। তবে সব বদলে দেয় পহেলগাঁও হামলা। গত বছর বৈসরণ উপত্যকায় সেই জঙ্গি হামলার পরই এলাকায় সিনেমার শ্যুটিং-এ ভাটা দেখা যায়। বিশেষত বলিউড মুখ ফিরিয়ে নেয় কাশ্মীর থেকে। বাতিল করতে থাকে একের পর এক শ্যুটিং। যে সমস্ত সিনেমার শ্যুটিং বাকি ছিল সেগুলি বিকল্প লোকেশনে শেষ করেন প্রযোজকরা। এক বছর পরেও বলিউডের কাশ্মীর ভীতি যেন কাটেনি। নতুন করে কাশ্মীর উপত্যকায় আর কোনো সিনেমার লোকেশন রাখেনি মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। এই অবস্থায় আশার আলো দেখাচ্ছে দক্ষিণ ভারত। কারণ, দক্ষিণের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কলাকুশলীরা কাশ্মীরে শ্যুটিং বাতিল করার পথে হাঁটেননি। জম্মু ও কাশ্মীরে যাতে আগের মতো সিনেমার শ্যুটিং হয়, শনিবার তার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তাঁর কথায়, ‘কলাকুশলী এবং সিনেমার নির্মাতাদের কাজের উপযোগী পরিবেশ গড়ার উপরে জোর দেওয়া হবে।’
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, জঙ্গি হামলার পরে সাময়িকভাবে শ্যুটিং বাতিল করে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা নির্মাতারা। পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হতেই তাঁরা উপত্যকায় ফিরতে থাকেন। মিউজিক অ্যালবাম ছাড়াও গত বছর অন্তত ছ’টি দক্ষিণী সিনেমার শ্যুটিং হয়েছে এখানে। থ্রিলার থেকে দেশভক্তি— সব ধরনের সিনেমার লোকেশন হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে কাশ্মীর উপত্যকাকে। এখনও স্থানীয় প্রযোজকদের সঙ্গে শ্যুটিং নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন দক্ষিণের কলাকুশলীরা।
এ প্রসঙ্গে হেমিন অস্টো প্রোডাকশনের সিইও দানিশ খান বলেন, ‘এখন আমি চেন্নাইতে বসে কাশ্মীরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। দক্ষিণ ভারতীয় পরিচালকরা কাশ্মীরে শ্যুটিং করতে ভালোবাসেন। অ্যাকশন ধর্মী বা দেশভক্তি মূলক সিনেমার ক্ষেত্রে কাশ্মীর আদর্শ লোকেশন।’ স্থানীয়রাও এই উদ্যোগে খুশি। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় এক লাইন প্রোডিউসার বলেন, ‘দক্ষিণ ভারতীয় প্রোডিউসাররা দায়িত্বশীল। তাঁরা শিডিউল পিছিয়ে দিতে পারেন। তবে কাশ্মীর ভিন্ন অন্যত্র যাবেন না। কাশ্মীর তাঁদের অগ্রাধিকারের তালিকাতেই রয়েছে।’ প্রতীকী ছবি