• সাত বছরে প্রথমবার, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় অস্বস্তিতে রেলমন্ত্রক
    বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: হাই প্রোফাইল বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় অস্বস্তিতে রেল। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নিউদিল্লি-বারাণসী রুটে প্রথম সেমি হাইস্পিড বন্দে ভারত ট্রেনের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উদ্বোধনের পর থেকে বিগত সাত বছরে বিভিন্ন রুটে বন্দে ভারত লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীদের পাথর ছোড়ার ঘটনায় একাধিকবার খবরের শিরোনামে এসেছে এই সেমি হাইস্পিড ট্রেন। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকে এই সাত বছরে কোনোদিন লাইনচ্যুত হয়নি এই ট্রেন। আর সেই কারণে প্রথমবার সেমি হাইস্পিড ট্রেনের বেলাইন হওয়ার ঘটনায় ঘুম উড়েছে রেল কর্তাদের। বিগত কয়েক বছরে মোদি সরকারের অন্যতম ধ্যানজ্ঞানই হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্দে ভারত ট্রেন। দূরপাল্লার অন্যান্য মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনে সেভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ রেল যাত্রীদের একটি বড়ো অংশের। এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির রেলভবনের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি রেক উৎপাদনে পরিকাঠামোগত মানোন্নয়নেই খামতি থেকে যাচ্ছে? যার ফল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের বেলাইন হয়ে যাওয়ার ঘটনা? ইতিমধ্যেই এব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রেল বোর্ড। 

    প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে পুনে স্টেশনে ঢোকার মুখে ‘ডায়মন্ড ক্রসিং’য়ে বেলাইন হয়ে পড়ে মুম্বই-সোলাপুর বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রী হতাহত হননি বলে দাবি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতে মন্ত্রকের অস্বস্তি কাটছে না। উল্লেখ্য, ‘ডায়মন্ড ক্রসিং’ হল দু’টো রেল লাইনের সেই সংযোগস্থল, যা অনেকটাই হীরের টুকরোর মতো দেখতে হয়। ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে এই ডায়মন্ড ক্রসিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ধাপে ধাপে যে ট্রেনগুলি তুলে দিয়ে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবার সেই শতাব্দী এবং জনশতাব্দীরই ‘আপগ্রেডেশনে’র পরিকল্পনা করছে রেল বোর্ড। প্রায় ১০০টি শতাব্দী এবং জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের ‘আপগ্রেডেশনে’র সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এসংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে রেলমন্ত্রক। মুম্বই-সোলাপুর বন্দে ভারত এক্সপ্রেস বেলাইন হওয়ার বহু আগে ওই বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে বটে। কিন্তু সোমবারের দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে বলেই মনে করছে রেল বিশেষজ্ঞ মহল। 

    শতাব্দী এবং জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের ‘আপগ্রেডেশনে’র লক্ষ্যে ওই নির্দেশিকায় মোট আটটি প্রস্তাব দিয়েছে রেল বোর্ড। তার মধ্যে অন্যতম হল এইসব ট্রেনের ঝাঁকুনি রোধ করা এবং যাত্রীদের আসন আরও আরামদায়ক করা। শৌচালয়েও নজর দিতে বলা হয়েছে। এব্যাপারে সময়সীমা নির্ধারিত অ্যাকশন-প্ল্যান তৈরি করে অবিলম্বে জমা দিতে বলা হয়েছে রেলওয়ে জোনগুলিকে।
  • Link to this news (বর্তমান)