ভোটের দু’মাস পরও বঙ্গে বাহিনী? হার নিশ্চিত বুঝেছে বিজেপি, দাবি তৃণমূলের
বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আজ বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোট। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া—এই সাত জেলার ১৪২টি আসনে ৯২ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়বে বলে একপ্রকার নিশ্চিত তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলের মতে, জোড়াফুল শিবিরের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে খোদ বিজেপিই। ডবল সেঞ্চুরি পারের প্রত্যয় নিয়েই মঙ্গলবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের রাজ্যসভার এক সাংসদের ইঙ্গিতবহুল মন্তব্য, ‘স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহই তো বলছেন, রেজাল্ট বেরনোর দু’মাস পরেও বাংলায় থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এতেই স্পষ্ট বিজেপি গোহারা হারছে। ওরা ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে যদি নিশ্চিত হত, তাহলে কেউ ভোটের পরেও নিজেদের সরকারের বদনাম তথা ব্যর্থতা ঢাকতে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখে? তাছাড়া দলের জয়ী বিধায়ক, অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়িকে টিকিট না দিয়ে কেন দিল্লিতে নীতি আয়োগে বসাচ্ছে? দীনেশ ত্রিবেদীকে একপ্রকার দেশছাড়া করে বাংলাদেশে হাইকমিশনার করে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ভবানীপুরে নরেন্দ্র মোদি প্রচার এড়িয়েছেন। এসবেই স্পষ্ট, বিজেপি বুঝে গিয়েছে ওরা হারছেই।’
বিজেপির এই ইঙ্গিতকে ইতিবাচক হিসেবে নিজেদের দিয়ে জয় নিশ্চিত ধরেই নিয়েছে তৃণমূল। ২০২১ সালে এই ১৪২টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছিল ৮৪ শতাংশ। ভোট দিয়েছিলেন ২ কোটি ৮৫ লক্ষ নাগরিক। জ্ঞানেশ কুমারের ‘কৃতিত্বে’ এসআইআরের (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) জেরে এবার এখানে ১৮ লক্ষ ভোটার বাদ। ফলে এখন এই ১৪২ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ২১ লক্ষ। যাদের সিংহভাগ সমর্থন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই যাবে বলে আত্মবিশ্বাসী রাজ্যের শাসকদল। রাজ্যের তৃণমূল সাংসদদের একাংশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে সমাজবাদী পার্টি, এনসিপি (শারদ পাওয়ার), আম আদমি পার্টি, আরজেডি, ন্যাশনাল কনফারেন্সের মতো দল। চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথ অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকতে তাঁরা ‘রেডি’! তৃণমূলের শীর্ষস্তরে সেকথা জানিয়েও দিয়েছেন মোদি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা।
এই আবহে মোদির চাপ বাড়াচ্ছে কংগ্রেস। সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধীদের দিকে আঙুল তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দূরদর্শনে নির্বাচনি প্রচারের আদলে কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে’র মতো বিরোধী দলকে প্রবল আক্রমণ করেছিলেন। বলেছিলেন, মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে দিচ্ছে না বিরোধীরা। ওরা মহিলা বিরোধী। তাই পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রীকে বিপাকে ফেলতে কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে সওয়াল খাড়া করেছেন—‘বিরোধীদের চাপে তড়িঘড়ি গত ১৬ এপ্রিল মধ্যরাতে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম আইন কার্যকরের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন মোদি। এবার তাহলে তা কার্যকর করুন। ডাকা হোক সর্বদলীয় বৈঠক। সংসদে নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডা পাশ করাতে চেয়েছিলেন। এবার মহিলা সংরক্ষণ আইন এখনই কার্যকর করে মহিলাদের কাছে প্রায়শ্চিত্ত করুন প্রধানমন্ত্রী।’