কলমা পড়তে জানো? প্রশ্ন করেই ২ নিরাপত্তারক্ষীকে কোপাল যুবক
বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
মুম্বই: অনেকটা পহেলগাঁও হামলার ধাঁচে প্রশ্ন এসেছিল, কলমা পড়তে জানো? যুবকের প্রশ্নের উত্তরে ‘না’ বলেছিল দুই নিরাপত্তারক্ষী। তারপরেই এলোপাথারি কোপ। সোমবার ভোররাতে মুম্বই শহরতলির মীরা রোডের এই ঘটনা ঘিরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত জাইব জুবেইর আনসারিকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক নোটের সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখাতে চায় জুবেইর। তারই প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে দুই নিরাপত্তারক্ষীর উপর এই ‘লোন উলফ’ বা একাকী হামলা। সূত্রের খবর, জুবেইরের নোটে ‘জিহাদ’, ‘গাজা’-র মতো একাধিক শব্দের বারবার উল্লেখ রয়েছে।
সোমবার রাতে মীরা রোডের একটি নির্মীয়মাণ ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন আহত রাজকুমার মিশ্র ও সুব্রত রমেশ সেন। আহত সুব্রত জানিয়েছেন, রাত তিনটে নাগাদ নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে ওই যুবক মসজিদের ঠিকানা জানতে আসেন। সেই সূত্রেই, নিরাপত্তারক্ষীদের ধর্ম পরিচয় জানতে চান। তারপর সেখান থেকে চলে যান জুবেইর। রাত ৪টে নাগাদ ফের সেখানে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় তাঁকে। রাত সাড়ে চারটে নাগাদ নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছে গিয়ে জুবেইর প্রশ্ন করে, তারা কলমা পড়তে জানে কী না? উত্তর নেতিবাচক হওয়ায় এলোপাথারি কোপানো হয় রমেশ ও রাজকুমারকে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। হাসপাতালে ভরতি করা হয় দুই নিরাপত্তারক্ষীকে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, রাজকুমারের পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। সিসি ক্যামেরার সূত্র ধরে ৯০ মিনিটের মধ্যে জুবেইরকে গ্রেপ্তার করেছে মহারাষ্ট্র এটিএস (অ্যান্টি টেরিরিজম স্কোয়াড)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজ্ঞানে স্নাতক জুবেইর বেশ কয়েকবছর কাটিয়েছেন মার্কিন মুলুকে। ২০১৯ সালে সে ভারতে ফিরে এসে মীরা রোডে থাকতে শুরু করে। অনলাইনে রসায়নের টিউশন দিত সে। তদন্তকারীদের অনুমান, ইন্টারনেটের বিভিন্ন কনটেন্ট দেখেই মৌলবাদে আকৃষ্ট হয় ওই যুবক। তার সঙ্গে কোনো হ্যান্ডলারের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার তদন্তভার মহারাষ্ট্র পুলিশের পাশাপাশি এনআইএকেও দেওয়া হয়েছে জানিয়েছেন সেরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, যুবকের মগজধোলাই করা হয়েছিল। তার আক্রমণের লক্ষ্য ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এটিএসের পাশাপাশি এনআইএ-ও এই ঘটনার তদন্ত করছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।’