ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: এবার কি বলিউডে ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’র বায়োপিক চূড়ান্ত? মঙ্গলবার এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন পদ্মশ্রী করিমুল হক নিজেই। বলেছেন, ডাক এসেছে। আগামী মাসেই মুম্বইয়ে যাচ্ছি। সেখানেই সবটা চূড়ান্ত হবে। তবে পরিচালক কে কিংবা তাঁর ভূমিকায় কে অভিনয় করবেন, সেসব নিয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ করিমুল। বলেন, মুম্বই থেকে ফিরে এসেই যা বলার বলব। তবে তাঁকে নিয়ে টলিউডে সদ্য শেষ হওয়া দেব অভিনীত বায়োপিক ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’ আগামী ১৫ আগস্ট মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন করিমুল। ডুয়ার্সের ক্রান্তি ও মালবাজারের জঙ্গল, চা বাগানে শ্যুটিং হয়েছে। এখন বড় পর্দায় ছবি মুক্তির অপেক্ষায় করিমুলের গ্রাম।
আর পদ্মশ্রী মন দিয়েছেন চাঁদার টাকায় নিজের বাড়িতে তৈরি হাসপাতাল ও স্কুলে। বললেন,আমার হাসপাতালে এখন আউটডোর চলছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিখরচায় পরিষেবা দিতে আসেন। ভালোই রোগী হয়। ইচ্ছে আছে, হাসপাতালটাকে আরও একটু উন্নত করা। রক্ত পরীক্ষা, এক্স রে, আলট্রাসোনোগ্রাফির জন্য মেশিনপত্র বসানো। বায়োপিকের জন্য যেটুকু অর্থ পাব, তা দিয়েই এসব করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই পাঁচটা বেড বসিয়েছি। হাসপাতালের পাশাপাশি নিজের বাড়িতে চলা অবৈতনিক স্কুলের পরিকাঠামোটাও একটু বাড়ানোর ইচ্ছে রয়েছে পদ্মশ্রী করিমুলের। বলেন, গ্রামের শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা বিনা বেতনে এখানে পড়ান। গরিব ঘরের ছেলেমেয়েদের অনেকেই পড়তে আসে। তাদের কোচিং ক্লাসটা হয়ে যায়।
জলপাইগুড়ির ক্রান্তির প্রত্যন্ত রাজাডাঙা গ্রামে বাড়ি করিমুলের। ১৯৯৫ সাল। দুর্গম এলাকায় ঝড়-জলের রাতে অ্যাম্বুলেন্স না মেলায় সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেননি মা জফুরেন্নেসাকে। বিনা চিকিৎসায় চোখের সামনে মায়ের মৃত্যু নাড়িয়ে দেয় করিমুলকে। ঠিক করেন, তাঁর গ্রামের আর কাউকে এভাবে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে দেবেন না। তিলে তিলে পয়সা জমিয়ে একটা বাইক কেনেন। তারপর সেটাকেই ‘অ্যাম্বুলেন্স’ হিসাবে ব্যবহার করেন। রাতবিরেতে কেউ অসুস্থ হলে নিজেরই বাইকে চাপিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেন হাসপাতালে। এভাবেই এলাকায় তাঁর পরিচিতি হয় ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’। সমাজসেবায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ২০১৭ সালে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়া হয় তাঁকে।
বাইক থাকলেও চাঁদার অর্থে এখন একটি অ্যাম্বুলেন্স কিনেছেন করিমুল। কোথাও কোনো দুঃস্থ মানুষ অসুস্থ হয়েছে শুনলেই এতটুকু সময় নষ্ট না করে নিজের অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে পৌঁছে যান সেখানে। তারপর সেই অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীকে নিয়ে পৌঁছে দেন হাসপাতালে। সারাবছর ধরেই চলতে থাকে তাঁর এই সমাজসেবা। বললেন, আমার কাছে রাত-দিন বলে আলাদা করে কিছু নেই। কোনো গরিব মানুষ বিপদে পড়েছে শুনলে হাতগুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতাল, এভাবেই চলতে থাকে।
করিমুলকে নিয়ে বলিউডে বায়োপিক তৈরি হবে, এর আগেও এমনটা শোনা গিয়েছিল। কখনও শোনা যায় তাঁর চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। কখনও আবার সোনু সুদ, আমির খান কিংবা শাহরুখ খানের নাম ঘিরেও জল্পনা ছড়ায়। তবে শেষমেশ তা বাস্তব রূপ পায়নি। এবার তা চূড়ান্ত হতে চলেছে, এমনটাই দাবি করিমুলের।