ইসলামপুরে বহু বুথে দিতে পারেনি পোলিং এজেন্ট, ভোটের ফলাফল নিয়ে চিন্তিত বিরোধী দলগুলি
বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ইসলামপুরে বহু বুথে পোলিং এজেন্ট দিতে পারেনি বিজেপি, কংগ্রেসের মতো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। প্রথম দফার নির্বাচন শেষে এই তথ্য উঠে এসেছে রাজনৈতিক মহলের সামনে। এতে সংশ্লিষ্টদের সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। তারপরেও বিরোধীরা অবশ্য মুখে জয়ের দাবি করছে। বিরোধীদের জয়ের দাবিকে তৃণমূল কংগ্রেস ফাঁকা আওয়াজ বলে কটাক্ষ করেছে। এতে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি তথা ইসলামপুরের প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, আমাদের বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠন আছে। বিরোধীদের সংগঠনই নেই। আমাদের জয় নিশ্চিত। বিরোধীরা তো বহু বুথে এজেন্টই দিতে পারেনি। তারা কীভাবে জয়ী হবে? ভোট কি হাওয়ায় হবে? যারাই জয়ের দাবি করছে, তা আসলে ফাঁকা আওয়াজ ছাড়া আর কিছু নয়। ৪ মে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।
রাজনৈতিক মহলের আলোচনা, ভোটগ্রহণ পর্ব মেটার পর থেকেই তৃণমূল, বিজেপি সহ অন্যন্য রাজনৈতিক দল নিজেদের জয়ের দাবি করেছে। কিন্তু কাদের দাবি কতটা গ্রহণযোগ্য ও কতটা জল মেশান আছে তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে রাজনৈতিক মহল। ইসলামপুরে ২৪৬টি বুথ। মোট ভোটার ২ লক্ষ ২ হাজার ২১৭ জন। তারমধ্যে ভোট দিয়েছেন ৯১.৩৯ শতাংশ। বিগত নির্বাচনগুলির তুলনায় এবার ইসলামপুরে বেশি ভোট পড়েছে। ২০২১ এর নির্বাচনে ৮৩.৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এসআইআরে ৪৫ হাজার ৯২১ ভোটার বিচারাধীন ছিল। ১৫ হাজার ৩৪৮ জনের নাম বাদ গিয়েছে। তারপরও ৮ শতাংশ ভোট বেশি পড়েছে। ভোটের শতাংশ বেশি দেখেই কেউ কেউ জয়ের দাবি করছে।
ইসলামপুর বিধানসভার বিজেপির পর্যবেক্ষক সন্দীপ ভট্টাচার্য বলেন, আমরা ১৫০টি বুথে এজেন্ট দিতে পেরেছি। সংখ্যলঘু অধ্যুষিত বুথগুলিতে আমাদের সংগঠন নেই বলে সেখানে এজেন্ট দেওয়া সম্ভব হয়নি। সংগঠনের যখন এই হাল তাহলে বিজেপি কি জিতবে? এপ্রসঙ্গে সন্দীপবাবু বলেন, আমরা নিশ্চয়ই জিতব। এবার অনেক বেশি সংখ্যায় ভোট পড়েছে। এই ভোট পরিবর্তনের পক্ষে পড়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভোট পড়ার হার বেশি হয়েছে। কিন্তু এই ভোট কোন দিকে বেশি পড়েছে তা পরিষ্কার বলা যাচ্ছে না। তবে নির্বাচনের লড়াইয়ে সংগঠন একটি বড় ভূমিকা নেয়। ভোট করানোর লোকেরও দরকার হয়। শুধু হাওয়ার ভোটে জয় আসা কঠিন। সেদিক থেকে বিরোধীদের চেয়ে তৃণমূল অনেকটাই এগিয়ে আছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, তৃণমূল নেতৃত্ব আগাগোড়া দাবি করেছে বুথস্তর পর্যন্ত তাদের সংগঠন আছে। সংগঠনের ভিত্তিতেই তারা নির্বাচনে জয়ী হবে। ইসলামপুরে অধিকাংশ ভোটার সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের। এসআইআর নিয়ে যেভাবে শাসক বিরোধী তরজা চলেছে তাতে কেন্দ্রের বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় আতঙ্কিত সংখ্যলঘুরা। এসআইআরের জবার দিতে সবাই চেষ্টা করেছেন বুথে গিয়ে ভোট দেওয়ার। সেকারণেই ভোটিং পার্সেন্টেজ বৃদ্ধি পেয়েছে। কংগ্রেস প্রার্থী গুড্ডি রিয়াজের স্বামী তথা ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি হারুন রশিদ বলেন, আমরা ১০০টি বুথে এজেন্ট দিতে পেরেছিলাম। আশা করছি জয়ী হব। • ইসলামপুর কলেজে গণনা কেন্দ্র।