আবাসিক স্কুল থেকে পালাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ছাত্রের
বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, তপন ও গঙ্গারামপুর: শৌচাগারের ভেন্টিলেটর দিয়ে পালাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল আবাসিক স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রের। গঙ্গারামপুর ব্লকের জাহাঙ্গীরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাগানবাড়ি এলাকায় ওই স্কুলে মৃত ছাত্রের নাম জামিস আলবাক্স হোসেন (১৫)। তার বাড়ি তপন ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তাড়ইট এলাকায়। বাবা আক্তার হোসেন নিরাপত্তারক্ষী। পরিবারের দুই সন্তানই ওই হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বাড়ি থেকে হোস্টেলে ফিরে যায় জামিস। সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। আগামী শুক্রবার মাসির ছেলের বিয়েতে যাওয়ার কথা ছিল ফলে হঠাৎ করে পালানোর মতো কোনো কারণ ছিল না বলে দাবি পরিবারের।
হোস্টেল সূত্রে খবর, সোমবার গভীর রাতে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে বাইরে বেরনোর চেষ্টা করছিল ওই পড়ুয়া। সেই সময় পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে চলে এলে গুরুতর আহত হয় জামিস। এরপর ভেন্টিলেটর থেকে নীচে পড়ে যায় সে। তাকে উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি।
এই ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছে পরিবার। তাদের দাবি, ঘটনাটি রাত প্রায় ১২টার সময় ঘটলেও জানানো হয় রাত দু’টো নাগাদ। কেন এত দেরিতে খবর দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এত বড় ভেন্টিলেটর খোলা থাকলেও বন্ধ করার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। মৃতের কাকা আনারুল হোসেন বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের কথাবার্তায় অসঙ্গতি রয়েছে। তারা বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করেছে। ঘটনার দু’ঘণ্টা পর আমাদের জানানো হয়েছে। এতক্ষণ পড়ে থাকার পরও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি কেন?
আবাসিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক রতন রায় বলেন, সোমবার রাত বারোটার দিকে জানতে পারি ওই পড়ুয়া তার রুমে নেই। সব জায়গা খোঁজার পর দেখি বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে বাইরে বেরতে গিয়ে পড়ে মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা আতঙ্কিত হয়ে যাই। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা তখন মাথায় আসেনি। পরিবারকে ও থানায় খবর দেওয়া হয়েছিল। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে গঙ্গারামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।