সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুর মহকুমা এলাকায় বোরো ধান পাকার মুখে পোকার আক্রমণ হওয়ায় বোরো চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। তাঁরা বলছেন, পোকার আক্রমণে ধানের গাছ গোড়া থেকে শুকিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না। বিঘার পর বিঘা জমিতে আক্রমণ হওয়ায় চাষিরা কার্যত বিপাকে পড়েছেন। এই ব্যাপারে কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় কিছু কিছু পোকার আক্রমণ ঘটছে। তবে তা অস্বাভাবিক নয়। প্রায় ৮০ শতাংশ ধানই পেকে গিয়েছে। তাই খুব বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবুও আমাদের আধিকারিকরা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন। চাষিদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর মহকুমার মধ্যে জয়পুর, কোতুলপুর, ইন্দাস, পাত্রসায়র ও সোনামুখীতে বোরোর চাষ বেশি হয়। এবারে বোরো ধানের ফলনও তুলনামূলক ভালো হয়েছে। তবে ধান পাকার মুখে ইন্দাস, পাত্রসায়র, সোনামুখী প্রভৃতি এলাকায় বোরো গাছে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তার জেরে ধানের গাছ গোড়া থেকেই শুকিয়ে যাচ্ছে। পোকার আক্রমনের খবর পেয়ে মঙ্গলবার কৃষি আধিকারিকরা সোনামুখীর মানিকবাজার এলাকায় বোরো ধানের জমি পরিদর্শন করেন। আক্রান্ত গাছ তুলে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান। তাঁরা চাষিদের অভয় দিয়েছেন।
মানিকবাজার এলাকার চাষিরা বলেন, ক’দিন আগেও ধানের গাছ ভালো ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে প্রচুর পরিমাণে ধানের গাছ শুকিয়ে যেতে থাকে। ওষুধ প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না। এদিন কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা এসেছিলেন। তাঁরা আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু এভাবে আক্রমণ ছড়াতে থাকলে ধান সম্পূর্ণ পাকার আগেই শেষ হয়ে যায় কি না সেই আশঙ্কায় রয়েছি। স্থানীয় চাষি শচীনন্দন কুণ্ডু বলেন, বোরো ধানে বিঘা প্রতি ১০ হাজার টাকা খরচা হয়েছে। পোকার আক্রমণে ধানের গাছ, পাতা, শিষ সবই শুকিয়ে যাচ্ছে। চাষের খরচ উঠবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তায় আছি।