হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ফিরছেন ভিন রাজ্যে, ট্রেনে পা রাখার জায়গা নেই!
বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: গত বৃহস্পতিবার রাজ্যে বিধানসভার প্রথম পর্বের ভোট মিটেছে। ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এবার ভিনরাজ্যে ফেরার পালা পরিযায়ী শ্রমিকদের। আর সেই ফিরতি যাত্রা ঘিরেই এখন চরম বিশৃঙ্খলা। ট্রেনের কামরায় একটি সিট পাওয়ার লড়াইয়ে রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠছে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলি। অগ্রিম টিকিট কেটেও বহু যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ট্রেন তো দূর, স্টেশনে পা রাখার জায়গাটুকুও নেই। কামরায় ওঠার জন্য যাত্রীদের মধ্যে যে ঠেলাঠেলি শুরু হচ্ছে, তা দেখে শিউরে উঠছেন স্থানীয়রা। সোমবারে জঙ্গিপুর স্টেশনে এমনই এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে, যার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে মালদহ ডিভিশনের রেলের এক জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন, ভোটের কারণে বহুযাত্রী এসেছিলেন। এত ভিড় হবে তা অনুমান করা যায়নি। ভোট স্পেশাল ট্রেন চলেছে, তার পড়েও বাড়তি ট্রেন চালানো যায় কি না, সে বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে।
ভোটের মরশুম কাটতেই কাজের তাগিদে ভিন রাজ্যে ফেরা শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের চাপ বেড়েছে বহুগুণ। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর, সাগরদিঘির মোরগ্রাম এবং ফরাক্কা স্টেশনে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। মঙ্গলবার সকালে ও জঙ্গিপুর মহকুমার স্টেশনগুলিতে একই দৃশ্য ধরা পড়েছে। স্টেশনের বাইরে দীর্ঘ লাইন। প্ল্যাটফর্মে তিলধারণের জায়গা নেই। ট্রেনের কামরায় ওঠার জন্য মরিয়া যাত্রীরা একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন। জঙ্গিপুর স্টেশনে ট্রেনের সিটে বসা নিয়ে দুই দল যাত্রীর মধ্যে মারপিট শুরু হয়। এক যাত্রীর মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয় বলে দাবি। এই ঠেলাঠেলিতে বয়স্ক ও শিশুরা কার্যত পিষ্ট হওয়ার উপক্রম। ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, আগে থেকে টিকিট কাটা থাকলেও কামরায় ঢোকার পরিস্থিতি নেই। দরজায় উপচে পড়া ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢোকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বহু যাত্রীই স্টেশনে ঘণ্টা পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ট্রেনে উঠতে না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
অনেকেরই অভিযোগ, ভোটের সময়ে এই বাড়তি ভিড়ের কথা মাথায় রেখে রেল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করলেও সেই ট্রেন তারা পায়নি। ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। মোরগ্রাম স্টেশনে ট্রেন ধরতে আসা যাত্রী নিয়ামত আলি বলেন, সোমবার স্টেশনে এসে ভিড়ের জন্য ট্রেনে চড়তে পারিনি, ফলে বহু যাত্রীর সঙ্গে আমিও ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছি। আজও একই অবস্থা, কর্মস্থলে যেতে হবে, সামনেই আবার ঈদ রয়েছে। মোরগ্রাম, জঙ্গিপুরও ফরাক্কা স্টেশনে প্রতিদিন যে জনস্রোত দেখা যাচ্ছে, তা সামাল দেওয়া রেল পুলিশের পক্ষেও কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যাত্রীদের দাবি, অবিলম্বে এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হোক। না হলে ভিনরাজ্যে ফেরা তো দূর, রোজগারের আশায় বেরোনো সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।