বাঁকুড়া লোকসভার ৬ কেন্দ্রে জয় পর্যালোচনায় নিশ্চিত তৃণমূল
বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার ছ’টি বিধানসভাতেই এবার প্রার্থীরা জয় হাসিল করবেন বলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উঠে এসেছে। ভোটের পর্যালোচনা করতে সোমবার বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল ভবনে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে দলের নিচুতলার নেতাদের কাছ থেকে বুথওয়াড়ি রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়। সেই রিপোর্ট একত্রিত করে ঘাসফুল শিবির জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হয়েছে। সিংহভাগ বুথে বিজেপির সঙ্গেই যে তাদের মূল লড়াই তা রিপোর্টে উঠে এসেছে বলে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে।
বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, দলের জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে ব্লক ও অঞ্চল সভাপতিরা হাজির ছিলেন। তাঁরা নিজ নিজ এলাকার রিপোর্ট দলের কাছে জমা দেন। জেলা নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে আমি সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখেছি। গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার ছ’টি বিধানসভার মধ্যে পাঁচটিতে আমরা এগিয়েছিলাম। এবার ছ’টি বিধানসভাতেই দলের প্রার্থীরা জয়ী হবেন। জয়ের ব্যবধান কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। তবে সর্বত্র যে ঘাসফুল ফুটবে তা নিশ্চিত। তিনি আরও বলেন, বিজেপির পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। তারা দেশের প্রধানমন্ত্রীকে রাস্তায় নামিয়েছে। তারপরও বিজেপি সফল হবে না।
বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল স্বপ্নে পোলাও রান্না করছে। ফলে বেশি করে ঘি দিতে অসুবিধা নেই। ওরা জেলার সমস্ত আসনেই পর্যুদস্ত হবে। বাঁকুড়ার ১২টি বিধানসভায় পদ্ম ফোটা শুধু সময়ের অপেক্ষা। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা বাঁকুড়ার প্রার্থী অভয় মুখোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল ও বিজেপিকে পরাস্ত করা আমাদের মূল লক্ষ্য। বাঁকুড়ার মানুষ এবার ওদের সমুচিত জবাব দিয়েছে। ভোটের ফল প্রকাশিত হলেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার ১২টি কেন্দ্রের মধ্যে আটটিতে বিজেপি জয় পেয়েছিল। চারটিতে জয় পায় তৃণমূল। বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলায় তৃণমূলের ফল তুলনায় ভালো হয়। জঙ্গলমহলের তিনটি বিধানসভাতেই শাসকদল জয়লাভ করেছিল। বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার একমাত্র বড়জোড়া আসনে তৃণমূল জয় হাসিল করেছিল। বাকিগুলি বিজেপির দখলে চলে যায়। গত লোকসভা নির্বাচনেও বিষ্ণুপুর কেন্দ্র বিজেপি দখলে রাখতে সক্ষম হয়। তবে বাঁকুড়া আসন অবশ্য তৃণমূল পুনরুদ্ধার করে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, দলীয় রিপোর্টে জেলার সংখ্যালঘু ভোট শাসকদলের পক্ষে গিয়েছে বলে স্থানীয় নেতৃত্ব দাবি করেছে। আইএসএফ প্রার্থী দিলেও তারা সুবিধে করতে পারেনি বলে তৃণমূল নেতারা মনে করছেন। তবে বামেরা কিছু জায়গায় সামান্য হলেও এবার ভোট বাড়াবে বলে শাসক দলের অন্তর্তদন্তে উঠে এসেছে। বামেদের ভোটবৃদ্ধি মানেই বিজেপির ক্ষতি বলে ঘাসফুল শিবিরের অভিমত। সেকারণে দলের ভালো ফলের ব্যাপারে তৃণমূল নেতৃত্ব আশাবাদী। যদিও রামের ভোট বামে ফিরবে না বলে পদ্ম শিবিরের দবি। তবে সিপিএম ও শরিক দলগুলি হারানো ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধারে এবার আপ্রাণ লড়াই করেছে বলে বাম নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।