মনে হচ্ছে রাজনৈতিক দলের নেতা: পুলিশ পর্যবেক্ষকের ব্যবহারে ক্ষুব্ধ অধীর
বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: যোগী রাজ্যের ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ অজয় পালশর্মাকে নিয়ে মুখ খুললেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘পুলিশের পর্যবেক্ষক এমন ব্যবহার করছেন, যেন মনে হচ্ছে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতা হয়ে এসেছেন!’
প্রথম দফার নির্বাচন শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ভোটের দায়িত্বে উত্তরপ্রদেশ থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে অজয়কে। তিনি ‘সিংঘম’ নামে পরিচিত। কমিশন তাঁকে ডায়মন্ড হারবারের পর্যবেক্ষক করেছে। যোগীর এই পুলিশ অফিসারের আচরণ দেখে বেজায় চটেছেন কংগ্রেসের পোড় খাওয়া নেতা অধীর। এদিন বহরমপুরের জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলায় পুলিশ অফিসারদের ক্ষেত্রে এতদিন এসব দেখতাম। এঁরা সরাসরি তৃণমূল করেন বলে অভিযোগ পেতাম। এখানকার তৃণমূলকে বাঁচিয়ে রেখেছে পুলিশ এবং আইপ্যাক। এখন বিজেপিও তৃণমূলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। অন্য রাজ্য থেকে বিজেপির যে আজ্ঞাবাহক অফিসার রয়েছেন, তাঁদের বাংলায় নিয়ে আসা হয়েছে।’
প্রথম দফা নির্বাচন নির্বিঘ্নে হলেও, দ্বিতীয় দফার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন অধীর। তিনি বলেন, ‘বাংলার নির্বাচনে আমরা সন্ত্রাস দেখতে অভ্যস্ত। এবার নজিরবিহীনভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু, দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে দেখছি, চারিদিকে গন্ডগোল হচ্ছে। মারামারি, সংঘর্ষ হচ্ছে। তাই আশঙ্কা করছি, সন্ত্রাসের একটা বাতাবরণ তৈরি হতে চলেছে। তবে, দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে কমিশনের নির্দেশে পুলিশ এক হাজারের বেশি দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করেছে। এটা অবাক লাগছে আমার কাছে।’
ভিন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরার জন্য রেলমন্ত্রকের তরফ থেকে কয়েকটি স্পেশাল সামার ভ্যাকেশন ট্রেন চালানো হয়। তাতে করে ভোট দিতে এসেছিলেন। কিন্তু এখন পরিযায়ীরা শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যেতে হবে। তাঁদের আর কোনও ট্রেনের ব্যবস্থা করছে না রেলমন্ত্রক। এ নিয়ে এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ভোট হয়ে গিয়েছে আবার কি! কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি। আপনা হাত জগন্নাথ বলে পরিযায়ী শ্রমিকদের তাড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপি পার্টি তাদের কিছু ভোট নিয়ে এসেছে। তৃণমূলও নিয়ে এসেছে। এখন ভোট হয়ে গিয়েছে। তাঁরা কিভাবে ফিরবেন, কারো মাথাব্যথা নেই। দুই দলের অবস্থান এখন একই। ভোট পাওয়া হয়ে গিয়েছে, এখন ওঁরা নিজেদের মতো করে চলে যাক। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে ওদের এটাই সহানুভূতি? ভাবতেই অবাক লাগছে।’