আর রাম নয়, বাংলার স্বার্থে বামেরাই বিকল্প, ঘরের ভোট ফিরেছে, নিশ্চিত সিপিএম প্রার্থীরা
বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: প্রথম দফার ভোট পর্ব মিটেছে বৃহস্পতিবার। সোমবার থেকেই স্কুলে যোগ দিয়েছেন সবংয়ের সিপিএম প্রার্থী নকুলচন্দ্র বেরা। তিনি শিক্ষক। সবং সারদাময়ী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভূগোল পড়ান। ১৯৯৫ সাল থেকে ওই স্কুলেই শিক্ষকতা করছেন। সবং থানার পাশেই তাঁর বাড়ি। এলাকায় নিপাট ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত নকুলবাবু ছোটবেলায় পিতৃহারা হয়ে খুব কষ্ট করে বড় হয়েছেন। স্নাতকোত্তর পড়া শেষ করার পর চাকরি পান। ছোট থেকেই খেটেখাওয়া গরিব মানুষের দুঃখে তাঁর মন কাঁদত। কৈশোরেই তাই যোগ দিয়েছিলেন সিপিএমে। সবংয়ে এবার তাঁকেই প্রার্থী করে সিপিএম। তাঁর আশা, মানুষ বামে ফিরছে। তাই রামের ভোট এবার বামে ফিরবেই। গত ২ এপ্রিল, খড়্গপুরে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে সবংয়ের তৃণমূল প্রার্থী মানসরঞ্জন ভুঁইয়াকে প্রণাম করেছিলেন নকুলবাবু। তাঁকে আশীর্বাদ করে মানসবাবু আহ্বান জানিয়েছিলেন, পারলে বামেদের ভোট ফিরিয়ে আন। চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখেননি নকুলবাবু। হেঁটে, বাইকে চষে বেড়িয়েছেন সবংয়ের ভেমুয়া থেকে দেভোগ, জলচক থেকে বিষ্ণুপুর। প্রচারে গিয়ে মাটির মানুষের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করেছেন। মাঠেঘাটে কাজ করা মানুষের পাশে বসে ভোট প্রার্থনা করেন। রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্তের কবিতা শুনিয়ে নকুলবাবুর ভোট প্রচার বেশ নজরও কাড়ে। প্রচারে বেরিয়ে বিষ্ণুপুর এলাকায় বিজেপির হাতে আক্রান্তও হন নকুলবাবু। শেষ লগ্নের প্রচারে সবংয়ের সিপিএম প্রার্থীর সমর্থনে বিমান বসুর রোড শোয়েও ব্যাপক ভিড় হয়। সবং সহ গোটা বাংলাতেই এবার বামেদের ফল ভালো হবে বলে আশাবাদী নকুলবাবু। মঙ্গলবার নকুলবাবু বলেন, প্রচারে বেরিয়ে মানুষের মধ্যে যে উৎসাহ, আবেগ দেখেছি, তাতে আমাদের ফল ভালোই হবে। মানুষ কাজ চায়। দুর্নীতিমুক্ত সরকার চায়। তৃণমূল প্রার্থী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া বলেন, একসময় সবংয়ে সিপিএমের ৬৭ হাজার ভোট ছিল। কমতে কমতে তা ৬ হাজারে নেমেছে। গেঞ্জি পাল্টে বামেরাই আজ রাম হয়েছে। তবে, নকুলবাবু যেভাবে পরিশ্রম করেছেন, আশা করছি বামেদের ভোট এবার বাড়বে। পিংলার বর্ষীয়ান সিপিআই প্রার্থী অশোক সেন, ডেবরার তরুণ সিপিএম প্রার্থী সুমিত অধিকারীও বলেন, মানুষের ভয় ভাঙছে। ভুলও ভাঙছে। তাঁরা বুঝতে পারছেন, একই বৃন্তে দুই ফুল! তাই বামেরাই সঠিক বিকল্প। এবার ইভিমেও তা প্রতিফলিত হতে চলেছে। সিপিএম প্রার্থী নকুলচন্দ্র বেরা।