প্লেসমেন্ট হয়নি, আত্মঘাতী আইআইটি খড়্গপুরের ছাত্র
বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ফের আইআইটি খড়্গপুরের মেধাবী পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু! মৃত ছাত্রের নাম সোহম হালদার (২২)। ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (বিটেক) চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন সোহম। তাঁর বাড়ি উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসতের শালবাগান এলাকায়। থাকতেন খড়্গপুর আইআইটির মদনমোহন মালব্য হলের এসডিএস-৩২৯ রুমে। মঙ্গলবার সকাল এগারোটা নাগাদ ওই রুম থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ। পরে আইআইটির বিসি রায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনা ঘিরে থমথমে খড়্গপুর আইআইটি। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সোমবার সোহমের ‘রুম মেট’ বাড়ি চলে যান। রুমে একাই ছিলেন সোহম। মঙ্গলবার সকাল থেকেই তাঁর রুম বন্ধ ছিল। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ নিরাপত্তা কর্মীরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে সোহমের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। এরপরই পুলিশ ও আইআইটির তরফে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেই সময়ই সোহমের পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, বোনের মোবাইলে মেসেজ করে সোহম জানিয়েছেন, ‘যখন এই মেসেজ পাবে, আমি তখন মৃত!’ তাঁর মৃতদেহ কীভাবে সংগ্রহ করতে হবে, তাও ওই মেসেজে লিখে দেন সোহম। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, প্লেসমেন্ট না হওয়ার কারণেই অবসাদে ভুগছিলেন চতুর্থ বর্ষের ওই পড়ুয়া। সেই অবসাদ থেকেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি। গত ১৮ এপ্রিল (শনিবার) খড়্গপুর আইআইটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া জয়বীর সিং দোডিয়ার দেহ উদ্ধার হয়েছিল অটলবিহারী বাজপেয়ী হলের নীচ থেকে। গুজরাতের আমেদাবাদের ওই পড়ুয়া ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। সিসি ক্যামেরায়ও সেই দৃশ্য ধরা পড়ে। মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে দুই পড়ুয়ার আত্মহত্যার ঘটনায় শোকে মুহ্যমান পড়ুয়া সহ আইআইটি কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে গত ১৬ মাসে আইআইটি খড়্গপুরের ৯ জন পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু হল। গতবছর (২০২৫) আইআইটি খড়গপুরের সাত ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ জনেরই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আত্মহত্যার তত্ত্বে সিলমোহর দেয় পুলিশ। ফের চলতি মাসে মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে দুই পড়ুয়া আত্মঘাতী হলেন। গতবছর দায়িত্ব নেওয়ার পরই পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবে সেতু অ্যাপ, মাদার ক্যাম্পাস নিয়মিত পরিদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী। তারপরও এই ধরনের ঘটনায় হতাশ সকলেই। এদিনের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ডিরেক্টর সহ আইআইটি কর্তৃপক্ষ।