সংবাদদাতা, খড়্গপুর: গণতান্ত্রিক উৎসবের দিন সুষ্ঠুভাবে পরিবহণ পরিষেবা দেওয়া যেখানে দস্তুর, সেখানে আচমকা লোকাল ট্রেন বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নিল দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশন! আজ, বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট। আর এদিনই ২৩ জোড়া লোকাল ট্রেন বাতিল করে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে দিল রেলমন্ত্রক। এমন সিদ্ধান্তের পিছনে কমিশনের হাত থাকার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। দলের প্রার্থী তথা জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেছেন, ‘অনভিপ্রেত সিদ্ধান্ত। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নির্দেশে বাংলায় একপ্রকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কমিশন। রেলকেও কাজে লাগিয়ে এভাবেই হেনস্তা করা হচ্ছে ভোটার ও ভোটকর্মীদের।’ বহু সংখ্যক ট্রেন বাতিলে ব্যাপক ক্ষুব্ধ ভোটকর্মীরা। যাঁরা মূলত প্রথম দফার ভোট সেরে দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটে অংশ নিয়েছেন। সিংহভাগের জন্যই বাসের ব্যবস্থা করা হয়নি। কোনওরকমে ট্রেনে কলকাতা সহ অন্যান্য জেলায় গিয়েছেন। কিন্তু, ফিরবেন কীভাবে? তার কোনও সদুত্তর নেই রেলমন্ত্রকের কাছে। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভোটকর্মীরা। পাশাপাশি, চরম দুর্ভোগে পড়তে চলেছেন নিত্যযাত্রী ও ব্যবাসায়ীরাও। আগাম ঘোষণা ছাড়াই রেলের এমন তুঘলকি সিদ্ধান্তে বেজায় চটেছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে খড়্গপুর ডিভিশন। সেখানে বলা হয়, আজ, বুধবার আপ ও ডাউন মিলিয়ে মোট ২৩ জোড়া ট্রেন বাতিল করা হল। এই ট্রেনগুলি সাধারণত রবিবার ও জাতীয় ছুটির দিনে বাতিল থাকে। কিন্তু, সপ্তাহের মাঝখনে বুধবার কেন বাতিল করা হল, তার সদুত্তর মেলেনি রেলের তরফে। তবে, পর্যবেক্ষকদের অনুমান, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের কারণেই ট্রেনগুলি বাতিল করা হয়েছে। কার নির্দেশে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রায় ৩ হাজার ৫০০ ভোটকর্মী ভোটের কাজে গিয়েছেন হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ কলকাতায়। পূর্ব মেদিনীপুরেরও অনেকে গিয়েছেন। এদের বেশিরভাগই মঙ্গলবার ট্রেনে করে রওনা দিয়েছেন। আচমকা ট্রেন বাতিলে তাঁরা বাড়ি ফিরবেন কিভাবে, তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন সকলেই। ভোটকর্মী শুভদীপ বসু, সৌম্যসুন্দর মহাপাত্ররা ক্ষোভের সুরে বলছিলেন, ‘আচমকা ট্রেন বাতিল করে দিল। আমরা ফিরব কিভাবে, তা নিয়ে কেউই ভাবল না। এত রাতে তো আর বাস পাব না। আমাদের অকারণ হেনস্তা করা হচ্ছে।’