বহু সরকারি কর্তার গোয়া ভ্রমণ স্পনসর করেছেন জয় কামদার, জমিদখল মামলায় কোর্টে ইডির দাবি
বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জমিদখল মামলায় ইডি হেফাজতে থাকা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জয় কামদার বহু সরকারি অফিসারকে গোয়া বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। এই স্পনসর করার বিনিময়ে তাঁদের কাছ থেকে পরবর্তীকালে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করেন তিনি। ব্যাঙ্কশাল আদালতে জমা দেওয়া ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টে এমনটাই দাবি করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। একইসঙ্গে আনন্দপুরে যে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি হয়েছিল তাঁর সঙ্গে জয়ের বেআইনি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। পুলিশে বদলি নিয়েও তাঁদের মধ্যে একাধিকবার কথাবার্তা হয়েছে বলে ইডি দাবি করেছে। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়। দুদিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। ইডি হেফাজত শেষে মঙ্গলবার জয়কে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। এজেন্সির আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, একটি এডুকেশন সোসাইটির অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ কোটি টাকা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কোম্পানিতে গিয়েছে। ওই টাকায় ওই এডুকেশন সোসাইটির নামে জমি কেনা হয়েছে কিংবা দেখানো হয়েছে তা ব্যবহৃত হয়েছে সমাজসেবায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, কোনো জমি কেনাই হয়নি! আর সমাজসেবার কাজে টাকা খরচের প্রমাণ তো বাহুল্য। এই এডুকেশন সোসাইটিরই মাথায় ছিলেন জয় কামদার। সেখান থেকে টাকা পাচার করা হয়েছে বলে দাবি এজেন্সির। এই লেনদেনের ক্ষেত্রে জয়ের ভূমিকা উদ্ঘাটন কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে এই রিয়েল এস্টেট মালিক বিভিন্ন থানায় একাধিক জমির মালিকের বিরুদ্ধে ভুয়ো মামলা করেছেন। এই কাজে তাঁকে সাহায্য করেছেন বিভিন্ন থানার ওসি। তাঁর সঙ্গে একাধিক ওসির ‘বিশেষ’ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে জয়ের এত ঘনিষ্ঠতা কেন? এই প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন। এমনকি, কলকাতা পুলিশের এক ওসি তাঁকে কেন ‘মাই লর্ড’ পর্যন্ত বলেছিলেন, এই প্রশ্নের কোনো ব্যাখ্যা জয় দেননি বলে ফরওয়ার্ডিংয়ে জানিয়েছে এজেন্সি। পাশাপাশি তাতে উল্লেখও রয়েছে যে, বিভিন্ন অফিসারকে তিনি উপহার পাঠাতেন। অনেক উচ্চপদস্থ অফিসারকে গোয়ায় বেড়াতে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি। এর বিনিময়ে তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা জয় আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পেয়েছে ইডি। এসব নিয়ে জেরার ব্যাপারে তাঁকে পাঁচদিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চায় ইডি। ওই ব্যবসায়ীর আইনজীবী দাবি করেন, প্রসিড অব ক্রাইমের টাকা যে তাঁর মক্কেল পেয়েছেন তার কোনো তথ্য ইডি তুলে ধরেনি। যে চারটি এফআইআর হয়েছে তাতে জয় কামদারের নাম নেই। সওয়াল শেষে জয়কে ৩০ তারিখ পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।