আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় নজরে ২০০০টি স্পর্শকাতর বুথ, প্রার্থীদের ভাগ্য ঠিক করবেন ৭৬ লক্ষের বেশি ভোটার
বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পরীক্ষার আগে শেষ বেলার রিভিশন। আজ, বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোটের আগে সব প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিলেন প্রশাসন থেকে পুলিশ, পর্যবেক্ষক থেকে ভোটকর্মীরা। তবে গোটা জেলায় বিশেষ নজর থাকবে ২০০০-এর মতো বুথে। কারণ এগুলি স্পর্শকাতর হিসাবে চিহ্নিত। জেলায় মোট ৯৩০৮টি বুথ রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ২২ শতাংশ বুথ এবার ‘সেনসেটিভ’-এর তকমা পেয়েছে। এসব জায়গায় বাড়তি নজরদারির দায়িত্ব রয়েছে প্রশাসনের উপর। যেমন এসব ভোট কেন্দ্রে তিনটি করে ক্যামেরা থাকবে। একটি ভিতরে, একটি বাইরে থাকবে। এছাড়া তৃতীয়টি বুথের ঠিক বাইরে রাস্তার দিকে মুখ করা থাকবে, যাতে কে আসছে-যাচ্ছে, তা সহজেই দেখা যায়।
এবারে জেলার ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ৭৬ লক্ষ ১ হাজার ৫১৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৮ লক্ষ ৯১ হাজার ৭১০ এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ৩৭ লক্ষ ৯ হাজার ৫৫১। নির্দল ও নথিভুক্ত দল মিলিয়ে তিনশোর বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার মধ্যে সব থেকে বেশি প্রার্থী ভোটে দাঁড়িয়েছেন ভাঙড় কেন্দ্রে। এখানে ১২ জন নির্দল সহ ১৯ জন প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, বিগত নির্বাচনগুলিতে কোন কোন বিধানসভা কেন্দ্রে একেকটি বুথে ৯০ শতাংশের বেশি ভোটগ্রহণ হয়েছে, অথবা একজন প্রার্থী ৭৫ শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছেন, স্পর্শকাতর বুথের তালিকা তৈরির সময়ে সেসব বিচার করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হয়েছে। তার ভিত্তিতে ফলতা, ক্যানিং পূর্ব, ডায়মন্ডহারবার, ভাঙড় শীর্ষে রয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট যাতে হয় তার জন্য কন্ট্রোল রুম থেকেও চলবে নজরদারি। রিটার্নিং অফিস, মহকুমা এবং জেলা প্রশাসনের সদর কার্যালয়ে পৃথক কন্ট্রোল রুম থাকবে, যেখান থেকে গোটা ভোট প্রক্রিয়ার উপর চোখ রাখবেন আধিকারিকরা।
ভোটের আগের দিন মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় নাকা তল্লাশির উপর যেমন জোর দেওয়া হয়েছে, তেমনিই নদীপথেও বাড়ানো হয়েছে টহলদারি। উত্তেজনাপ্রবণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত ভাঙড় বিধানসভায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। কমিশনারের সাফ কথা, ভোটদানের জন্য কেউ একা বা পরিবারের কাউকে নিয়ে বুথে গেলে, তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে। কিন্তু ভোটের দিন অযথা বাইক নিয়ে এলাকায় ঘোরাঘুরি করা যাবে না। বাইকে করে কিছু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না, তা চেকিং করা হবে। এদিকে, ভোটের আগের দিন প্রচুর মানুষ যাঁরা ভিন রাজ্যে কর্মসূত্রে থাকছিলেন, তাঁরা দলে দলে ফিরেছেন নিজ নিজ বিধানসভা কেন্দ্রে।