উৎসবের আবহে আজ ভোট হুগলির ১৮টি কেন্দ্রে, আত্মবিশ্বাসী শাসক দল
বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আজ, বুধবার হুগলি জেলার ১৮টি বিধানসভা কেন্দ্রে উৎসবের আবহে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। এর মধ্যে আরামবাগ মহকুমার চারটি আসনও রয়েছে। এই ভোটপর্বকে সুষ্ঠু করতে দীর্ঘদিন দিন ধরেই প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। রাজনৈতিক দলগুলিও প্রায় এক মাস ধরে নিরন্তর প্রচার চালিয়েছে। আরামবাগ মহকুমার চার কেন্দ্র বাদ দিলে বাকি ১৪টি আসনে মোট ১৩০ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজ। জেলার হরিপাল ও জাঙ্গিপাড়ায় প্রার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ। দু’টি ক্ষেত্রেই দশজনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলাজুড়ে ভোট দেবেন ৪৩ লক্ষ ৬১ হাজার ৩৯৩ জন ভোটার। জেলার নির্বাচন দপ্তর জানিয়েছে, মোট ৫,৫৮২টি বুথে ভোট নেওয়া হবে। এরজন্য প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার ভোটকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। ৫৬টি মডেল ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থাকছে। শান্তিপূর্ণ ভোট করতে গ্রামীণ পুলিশ এলাকায় ২৩৪ কোম্পানি ও চন্দননগর কমিশনারেট এলাকায় ৮৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
হুগলিতে প্রার্থীদের মধ্যেও তৎপরতা তুঙ্গে। জেলায় এবছর অধিকাংশ আসনেই নতুন মুখের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। কিছু আসনে অবশ্য অভিজ্ঞ প্রার্থীরাও রয়েছেন। বুধবারের ভোট নিয়ে সার্বিকভাবে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল শিবির। নেতৃত্বের দাবি, সর্বোচ্চ নেতৃত্ব প্রচারের ক্ষেত্রে স্থানীয় ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন। প্রচারের কাজও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। তৃণমূলের হুগলি জেলা সভাপতি তথা চাঁপদানির প্রার্থী অরিন্দম গুঁইন বলেন, গতবারের সাফল্যকে আমরা ছাপিয়ে যাব। সাধারণ মানুষ যেভাবে প্রচারে সাড়া দিয়েছেন, তা আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সাফল্য দাবি করেছে বামেরাও। সিপিএমের জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, এবারের নির্বাচনে কালোঘোড়া বামেরাই। বিজেপির রাজ্য নেতা তথা চন্দননগরের প্রার্থী দীপাঞ্জন গুহ বলেন, জেলায় সর্বত্র পদ্ম ফুটবে। অন্যদিকে, জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরী বলেন, সমস্ত ভোটারের ভোটদান নিশ্চিত করা এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই নিরিখেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বুধবার উৎসবের মেজাজে ভোট হবে।
নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার থেকেই জেলাকে নিরাপত্তার মোড়কে মুড়ে ফেলা হয়েছে। বহিরাগতদের যাতায়াত নিয়ে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্থল-জল-ট্রেনপথে নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলায় মোট ১৫টি মুখ্য ভোট পরিচালনা কেন্দ্র রয়েছে। জেলায় এবার পুরুষ ভোটারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছেন মহিলা ভোটাররা। ২১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৭০ জন পুরুষ ও ২১ লক্ষ ৬২ হাজার ২৩৮ জন মহিলা এবার ভোট দেবেন। সেইদিকে নজর রেখেই এক হাজারের বেশি মহিলা পরিচালিত ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। দু’টি ভোটকেন্দ্রে পুরুষ ও মহিলা ভোটকর্মীরা একত্রে ভোট নেবেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এসআইআর পরবর্তী ভোট হওয়ায় এবার প্রায় সব ভোটারই রায়দান করতে হাজির হবেন। সেক্ষেত্রে ভিড় বাড়বে বুথে।