• পানিহাটির বিজেপি প্রার্থীর উসকানিতেই তরুণীর উপর হামলা! প্রতিবাদে সরব বাম শিবির
    বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সোমবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফার ভোটপ্রচার শেষ হয়েছে রাজ্যে। কিন্তু ওই দিন দুপুরে পানিহাটি কেন্দ্রের আগরপাড়া এলাকায় বিজেপির পথসভা থেকে সিপিএমের এক তরুণী কর্মী ও তাঁর বাবার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় শোরগোল বেড়েই চলেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ওই হামলা কি বিজেপি প্রার্থীর উসকানিতেই? কারণ, টোটো থেকে সিপিএমের প্রচার শুনেই পথসভার মঞ্চে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রত্নাদেবী। প্রকাশ্যে বলেন, ‘এই রাস্তায় যে টোটোটি যাচ্ছে, তাদের আমি চরম ধিক্কার জানাই। সিপিএম পার্টিকে চরম ধিক্কার জানাই।’ সেই ভিডিয়ো ইতিমধ্যে ভাইরাল। অভিযোগ, এরপরই টোটোতে হামলা চালায় বিজেপি। আক্রান্ত তরুণী ও তাঁর বাবা বিজেপি প্রার্থীর মেয়ের সুবিচারের দাবিতে বহুদিন রাস্তায় নেমেছেন। সেই তাঁরাই বিজেপির সভা থেকে আক্রান্ত হওয়ায় নারী সুরক্ষা, নিরাপত্তা ইস্যুতে গেরুয়া শিবিরের দাবিগুলিই নস্যাৎ হয়ে গেল বলে মনে করছেন অনেকে। 

    সোমবার দুপুরে পানিহাটি বিধানসভা এলাকার আগরপাড়া সেন্ট্রাল রোড মহাজাতিনগরে বিজেপির পথসভা চলছিল। তখন বক্তব্য রাখছিলেন বিজেপি প্রার্থী। অশ্রুভেজা গলায় তিনি মেয়ের নির্মম পরিণতির কথা তুলে ধরছিলেন। সেই সময় দু’টি টোটো রাস্তা দিয়ে সিপিএমের প্রচার করতে করতে যাচ্ছিল। তা দেখেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন রত্নাদেবী। ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, উত্তেজিতভাবে তিনি সিপিএমের বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছেন। এরপরই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা হইহই করে ওঠেন। টোটো দু’টি গতি বাড়িয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। অভিযোগ, তখন মঞ্চের পিছনের দিকে থাকা বিজেপি কর্মীরা একটি টোটো আটকায়। টোটোতে ছিলেন সিপিএম কর্মী শ্রীলেখা মুখোপাধ্যায় ও তাঁর বাবা সুরজিৎ মুখোপাধ্যায়। অভিযোগ, তাঁদের  গালিগালাজ করার পাশাপাশি মারধর করা হয়। প্রচার মাইকের তার এবং টোটোর গায়ে লাগানো ফ্লেক্স ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। থানায় এনিয়ে অভিযোগ দায়ের হলেও মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করেনি। সুরজিৎবাবু বলেন, ‘বিজেপি প্রার্থী নিজেই গোলমালে উসকানি দিচ্ছেন দেখে অবাক লেগেছিল। একবারও মঞ্চ থেকে নেমে এসে বললেন না, কেন মেয়েটাকে মারধর করছ? অথচ, আর জি করের ঘটনার প্রতিবাদে রাত দখল থেকে শুরু করে দ্রোহের কার্নিভাল, চিকিৎসকদের অনশন মঞ্চ, সোদপুরে একের পর এক কর্মসূচিতে আমরা অংশ নিয়েছিলাম।’ শ্রীলেখা বলেন, ‘বাবাকে মারছে দেখে প্রতিবাদ করি। তখন আমাকেও মারতে শুরু করে। আমার ডান হাতে সমস্যা রয়েছে। মারধরের পর থেকে খুব যন্ত্রণা হচ্ছে। ভাবতে খারাপ লাগছে, কাকীমা সব দেখেও চুপ থাকলেন।’ তবে রত্নাদেবীর স্বামী শেখররঞ্জন দেবনাথ বলেন, ‘এসব ফালতু কথা। পাত্তা দেবেন না।’ বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মারধরের ঘটনা ঘটেনি। ওরা সভা লাগোয়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে মাইক প্রচার করছিল। সভা চালাতে সমস্যা হচ্ছিল। আমাদের কর্মীরা তাঁদের এগিয়ে যেতে বলেছিল। তাঁরা না শোনায় সামান্য বচসা হয়। সিপিএম পরিকল্পিত মিথ্যাচার করছে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)