• হুমকির পরদিনই জাহাঙ্গিরের মুখোমুখি! প্রবল বিক্ষোভে এলাকা ছাড়লেন কমিশনের ‘সিংঘম’
    বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ব্যবধান মাত্র একদিনের। তার মধ্যেই বিজেপির দাবি করা ‘সিংঘম’ পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা যেন কাগুজে বাঘে পরিণত হলেন! মঙ্গলবার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের অনুপস্থিতিতে তাঁর বাড়ি গিয়ে হুমকি, শাসানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ওই বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে। কিন্তু বুধবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর কনভয়ের সঙ্গে বেরিয়ে তৃণমূল পার্টি অফিসের পাশ দিয়ে যেতেই প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল তাঁকে। রাস্তায় নেমে হুংকার ছাড়লেন জাহাঙ্গিরও। সামনে পেয়েও মুখে রা নেই পুলিশ পর্যবেক্ষকের। উলটে তৃণমূল কর্মীদের থেকে শুনতে হল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। কিছু করতে না পেরে প্রার্থী-ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর মিলেছে। তৃণমূল প্রার্থী বলেন, এই মাটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। 

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনও ফলতার বিভিন্ন গ্রামে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঘুরেছেন ওই পুলিশ পর্যবেক্ষক। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য বাহিনীর তরফে গ্রামবাসীদের চাপ দেওয়া হচ্ছে! এমনও অভিযোগ উঠে এসেছে ফলতার শ্রীরামপুর গ্রামে। আরজিনা বিবি, সাহিদা বিবিরা জানান, জওয়ানরা আসছেন আর হুমকি দিচ্ছে। বিজেপিকে ভোট না দিলে ঝামেলা হবে বলছে। রাতে বাড়িতে ঢুকে হুমকি ও মহিলাদের হেনস্তা করার অভিযোগে পুলিশ পর্যবেক্ষক ও বাহিনীর বিরুদ্ধে থানায় নালিশ করেছেন এক মহিলা। মঙ্গলবার রাতে আদিত্য দাস নামে এক ব্যক্তি অজয়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন। ওই ব্যক্তির দাবি, পুলিশ পর্যবেক্ষক নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন না। তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হোক।

    এদিকে, উত্তরপ্রদেশের এই পর্যবেক্ষকের মঙ্গলবারের কীর্তি তুলে ধরে পোস্ট করেছেন বিজেপির আইটি সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তা অমিত মালব্য। তার প্রেক্ষিতে আরেক বিজেপি নেতা তথা জাতীয় মুখপাত্র অজয় আলোক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গুলি করার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন! তিনি লিখেছেন, ‘ভয় দেখালেই গুলি করা হবে দিদি!’ এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল। এক্স হ্যান্ডেলে দলের পক্ষ থেকে পালটা লেখা হয়েছে, ‘উত্তরপ্রদেশের গুলি করার সংস্কৃতি বঙ্গে আনার প্রবল চেষ্টা করছে বিজেপি।  এই অপমান কোনোদিনও ভুলবে না বাংলা। এর যোগ্য জবাব আগামী ৪ তারিখ দেবে মানুষ।’

    অন্যদিকে, অজয়ের একটি ভিডিয়ো দৃশ্য ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়েছে (এর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)। তাতে দেখা গিয়েছে, স্বল্পবসনা এক লাস্যময়ী রমণীর পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। উপভোগ করছেন ওই মহিলার নাচ! এমনকি সঞ্জয় দত্ত-মাধুরী অভিনীত খলনায়ক ছবির ‘চোলিকে পিছে কেয়া হ্যায়’ গানের তালে তাল মেলাতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। এই ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁকে ট্যাগ করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি বাবুয়া—ফান্টাকপ স্টাইলে তোমাকে আনন্দ করতে দেখে খুবই ভালো লাগছে। থাকো ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল, বাংলা সর্বক্ষণ তৃণমূল।’ অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবও এক্স হ্যান্ডলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ওই পুলিশ অফিসারের যে-সকল ছবি এবং ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে তা উত্তরপ্রদেশের জন্য লজ্জা। এটি মহিলাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের চূড়ান্ত নজির।

    তবে ওই পুলিশ পর্যবেক্ষকের কীর্তির শেষ এখানেই নয়। বিডিও অফিসে গিয়ে কথাবার্তা বলার সময় তথ্য না মেলায় জয়েন্ট বিডিও সৌরভ হাজরার বিরুদ্ধে অসযোগিতার অভিযোগ তোলেন অজয় । অর এদিন বিকেলেই সেই অফিসারকে সরিয়ে দেয় কমিশন। সন্ধ্যায় রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেছেন, অজয় পাল শর্মা কোনো নির্দেশ কাউকে দেননি। তিনি ভোটারদের আস্থা বাড়াতে কিছু মন্তব্য করেন। চাইলে তিনি রিপোর্ট জমা দিতে পারেন। কিন্তু সিইও দপ্তর তাঁর কাছ থেকে কোনো রিপোর্ট চায়নি।
  • Link to this news (বর্তমান)