অরাজনৈতিক প্রচার, ‘বাংলা দুর্গার’, সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা ৭০০ পুজো কমিটির
বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজোর বাকি আরও ১৬৬ দিন। কিন্তু তার আগেই বিধানসভার ভোটযুদ্ধের মাঝে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ-সর্বত্র ভাইরাল পুজোর বার্তা-‘এই বাংলা দুর্গার’।
দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচনের আগের দিন শহর থেকে শহরতলি, পুজো কমিটির কর্তারা এই বার্তা পোস্ট করেছেন নিজেদের ফেসবুক- হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে। এটি অবশ্যই অরাজনৈতিক প্রচার। কিন্তু প্রচারটি ভোটের আগে অর্থবহ—মত ওয়াকিবহাল মহলের। যদিও পুজোকর্তারা জানিয়েছেন, এটা বাংলা এবং বাঙালির লড়াই। তাই এই বার্তা।
আজ দ্বিতীয় তথা শেষ দফার বিধানসভা নির্বাচনে ১৪২ আসনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের ভাগ্য পরীক্ষা হবে। তার আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে শহর এবং শহরতলির বহু পুজো কমিটি তাদের ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটের ‘এই বাংলা দুর্গার’ বার্তা পোস্ট করেছে। জানা গিয়েছে, প্রায় ৭০০ পুজোকমিটি এই বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে নিজেদের পুজো-সাইটে। তবে শুধুমাত্র পুজো কমিটির ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ নয়। শহর-শহরতলিতে বাংলার দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত বহু পুজো কমিটির কর্তা, শিল্পী থেকে শুরু করে পুজোপ্রেমী বাঙালি এই বার্তা নিজস্ব ফেসবুকে, হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে শেয়ার করেছেন। কেউ কেউ পূজো কমিটির ফেসবুকের ডিপি থেকে শুরু করে ওয়াল, কোনো কোনো পুজোকর্তা নিজেদের হোয়াটসঅ্যাপ ডিপি পর্যন্ত বদল করে ফেলেছেন। সর্বত্র বার্তা একটাই, ‘এই বাংলা দুর্গার’।
এটা অনেকটা অরাজনৈতিক পোস্টের মাধ্যমে রাজনৈতিক লড়াই। বলছে সংশ্লিষ্ট মহল। যদিও এই বিষয়ে রাজনীতি দেখতে নারাজ পুজো কমিটির কর্তারা। টালা প্রত্যয় পুজো কমিটির কর্তা ধ্রুবজ্যোতি বসু (শুভ) বলেন, ‘আমরা পুজোপ্রেমী। কোনো রাজনীতি করছি না। কিন্তু এবার বাংলার ভোট হচ্ছে উন্নয়ন, ভাতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এই সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে। এবারের ভোট বাংলা এবং বাঙালির অধিকার-অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এই বাংলা মা দুর্গার। এবার নির্বাচনে ঠিক হবে বাঙালি থাকবে, বাংলা তার অস্মিতা নিয়ে বাঁচবে, নাকি অন্য কিছু হবে। তাই বাংলার হয়ে লড়াইয়ের সেই বার্তা দিতেই আমরা বলছি, এই বাংলা দুর্গার।’ অন্যদিকে হাতিবাগান সর্বজনীনের পুজো উদ্যোক্তা শাশ্বত বসু বলেন, ‘সমস্ত পুজো কমিটি এই বার্তা পোস্ট করেছে। বাংলাকে বাঁচানোর জন্য, বাংলার অধিকার রক্ষার বার্তা এটা। দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে একটা আবেগ। তাই বার্তা স্পষ্ট, এই বাংলা অন্য কারও নয়, এই বাংলা দুর্গার।’ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দুর্গাপুজো কমিটির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগসূত্র অত্যন্ত আন্তরিক। পুজোর অনুদান থেকে শুরু করে উদ্বোধন-সর্বত্র মমতার পরশ আছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বাংলা এবং বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য রক্ষায় দুর্গাপুজো অন্যতম হাতিয়ার। দুর্গাপুজো বাঙালির আবেগ। তাই এই বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে সেই আবেগে খানিকটা ইন্ধন দেওয়ার প্রচেষ্টা। এই বাংলা দুর্গার, এই বাংলা কালীর। সেখানে কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির স্থান নেই।