• ভাঙড়ে প্রতি বুথে ৮ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, ৩৫ ভোটকেন্দ্র ‘অতিস্পর্শকাতর’, ‘উত্তপ্ত’ তকমা ঘোচানোই চ্যালেঞ্জ কমিশনের
    বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচনের উত্তাপে সরগরম বাংলা। সেই আবহে এক সপ্তাহে তিন দিন (১৮ এপ্রিল, ১৯ এপ্রিল, ২৫ এপ্রিল) তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছে ভাঙড়ে। সব মিলিয়ে ৯৩টি বোমা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এই ট্রেন্ড কি ভোটের দিনও চলবে? বিগত একাধিক নির্বাচনে দেখা গিয়েছে, ভাঙড়ে বোমা-গোলাগুলির রমরমা। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এই প্রবণতা রোখাই কমিশনের চ্যালেঞ্জ। আর এক্ষেত্রে ভোট পরিচালকদের তুরুপের তাস কেন্দ্রীয় বাহিনী। সঙ্গে ‘দোসর’ ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। হিসাব বলছে, আজ ভাঙড়ে মোট ৩৮৯টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। প্রতি বুথে গড়ে ৮ জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করেছে কমিশন। তাঁদের কড়া নজরদারিতে ভাঙড়ে ভোট দেবেন ২ লক্ষ ৭২ হাজার ৭১১ জন। 

    কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর কাশীপুর থানা এলাকার মাঝেরআইট থেকে উদ্ধার হয়েছে ৭৯টি তাজা বোমা। পরের দিন পাশের গ্রাম ছেলেগোয়লিয়া থেকে আরও ৯টি বোমা উদ্ধার হয়। নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগেও অবস্থার বদল হয়নি। গত সোমবার পোলেরহাট থানা এলাকার অনন্তপুর গ্রামে একটি আমবাগান থেকে ৫টি তাজা বোমা বাজেয়াপ্ত করা হয়। বোমা উদ্ধারের পাশাপাশি নিকট অতীতে একাধিকবার উত্তপ্ত হয়েছে ভাঙড়। তৃণমূল ও আইএসএফ সংঘর্ষ, বিস্ফোরণের জেরে এনআইএ-কে বারবার ছুটতে হয়েছে ভাঙড়ে। 

    আজ, নির্বাচনের দিন এই ধরনের যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে অতিসক্রিয় কমিশন। সোমবার মোট ২৩ কোম্পানি সেন্ট্রাল ফোর্স হাজির হয় ভাঙড়ে। অর্থাৎ, প্রায় ২৭৫০ জন কেন্দ্রীয় জওয়ানের কড়া প্রহরা থাকবে সবক’টি বুথে।

     ভাঙড়ে মোট ভোটকেন্দ্র ২৮৭টি। তার মধ্যে ৩৫টি ভোটকেন্দ্রকে ‘অতিস্পর্শকাতর’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে কমিশন। সেই ভোটকেন্দ্র ও বুথগুলি নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। অতিস্পর্শকাতর ভোটকেন্দ্র থেকে ৫০০ মিটার পর্যন্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজে নজরদারি চালানো হবে কমিশনের কন্ট্রোল রুম থেকে। চিহ্নিত ৩৫টি ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় ৮টি রেসপন্স টিম (আরটি) টহল দেবে। গোটা ভাঙড়জুড়ে থাকবে ১৬টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)। মঙ্গলবার সকালে ভাঙড়ের ঘটকপুকুর ডিসিআরসি সেন্টার পরিদর্শনে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন সিপি। তিনি বলেন, ‘কিউআরটি, আরটি, মোবাইল পেট্রোলিং, বহুতল থেকে নজরদারি সহ সমস্ত উপায়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া হবে।’ সিপির সঙ্গে এদিন ছিলেন ভাঙড়ের ডেপুটি কমিশনার মণীশ যোশি। তিনি বলেন, ‘এদিন থেকেই সমস্ত বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়ে গিয়েছে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)