নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের ডিসিআরসির বাইরে তখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এক মহিলা ভোটকর্মী ভোটযন্ত্রের বাক্স কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর বাকি সঙ্গীরা অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে গেটের মুখে অপেক্ষা করছিলেন। বৃষ্টি কিছুটা কমতেই এক রাশ বিরক্তি নিয়ে গাড়ি ধরতে এগলেন তিনি। অনেকে হাতে ঝুলিয়ে ইভিএম ও অন্যান্য বাক্স নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই ভোট কর্মী কেন কোলে নিয়ে চললেন?
প্রশ্নটা করতেই কটমট চোখে তাকিয়ে বললেন, যে বাক্সের মধ্যে ভোট যন্ত্রটি রয়েছে তার হাতলটি ভাঙা। ডিসিআরসি থেকে বলা হল, এভাবেই নাকি এসেছে এগুলি। তাই উপায় নেই বলে কোলে করেই নিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে এই ভোট কর্মীর মত এমন অনেককেই দেখা গেল, কেউ কাঁধে কেউ আবার দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে চললেন নিজের নিজের বুথে। টিপটিপ করে বৃষ্টি শুরু হতেই আরও বিপাকে পড়েন পুরুষ, মহিলা ভোট কর্মীরাই। এরই মধ্যে একজনকে দেখা গেল, ভোটযন্ত্রের বাক্সের হাতল ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা সেটি ভেঙে গিয়ে বিপত্তি ঘটে। ফলে এদিন দিনভর ইভিএম, ভিভি প্যাট নিয়ে যেতে গিয়ে রীতিমতো কালঘাম ছুটে গিয়েছে অনেকেরই। এদিকে এদিন ডিসিআরসিতে একাধিক মহিলা ভোট কর্মীকে দেখা গেল যাঁরা প্রথমবার ভোটের ডিউটি পেয়েছেন। তেমনই একজন হলেন ফড়িয়াপুকুরের ঋতুপর্ণা ঘোষ। তিনি প্রথমবার ভোটের দায়িত্ব পেয়েছেন বলে খুশি। সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভার একটি স্কুলে থার্ড পোলিং অফিসার হয়েছেন তিনি। গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে নতুন পোশাক কিনে তা পরে এসেছেন সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ে। ডিসিআরসি কাউন্টার থেকে ভোট যন্ত্র নিয়ে তিনি বললেন, কোনোবার আমার ভোটের ডিউটি আসে না। এবার প্রথম এসেছে তাই আমি খুবই উৎসাহিত। নতুন অভিজ্ঞতা হবে। এই মুহূর্তটি উপভোগ করতে চাই। নরেন্দ্রপুরের মিতালি চক্রবর্তী প্রথমবার ফার্স্ট পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পেয়েছেন। এটাই তার প্রথমবারের অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। তিনি বলেন, প্রথমে ভয় হয়েছিল যে ভোটে কি হবে না হবে। আশা করছি সব ঠিক থাকবে।
সূত্রের খবর, এবার জেলায় ২ হাজার ৯০০ মহিলা বুথ এবং ৩১টি মডেল ভোট কেন্দ্র করা হয়েছে। সেগুলি আবার এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন মনে হচ্ছে, বিয়ে বাড়ির আসর বসতে চলেছে। ঝাড়বাতি থেকে আরম্ভ করে পাখা, বাহারি আলো, গদি দেওয়া সোফা ইত্যাদি রাখা হয়েছে। এই সব বুথে সেলফি জোনের ব্যবস্থাও করেছে প্রশাসন। ভোটাররা ভোট দিয়ে বেরনোর পর সেখানে তাঁদের ছবি তুলতে।