• এসআইআর-এ নাম বাদ নিয়ে ক্ষোভ, ইভিএমে ‘জবাব’ দেওয়ার প্রহর গুনছে ‘মতুয়াগড়’ বনগাঁ
    বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আজ রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। এই আবহে বনগাঁ মহকুমায় একটা চিত্র স্পষ্ট—মানুষ মুখিয়ে আছে এসআইআর নিয়ে দুর্ভোগ ও হেনস্তার জবাব দিতে। বনগাঁর ভোটারদের অনেকের কাছে এই ভোট নিছক আর একটা নির্বাচন নয়, বরং প্রতিবাদের ভাষা। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের আক্ষেপ, ‘এত দিন আমরা গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতাম। এবার থেকে আর হল না! দূর থেকে ভোটের লাইন দেখেই থাকতে হবে আমাদের। এ কেমন ভোট!’ 

    বনগাঁ মহকুমার চারটি বিধানসভা বাগদা, বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ ও গাইঘাটা মিলিয়ে মোট ৯ লক্ষ ১৮ হাজার ৩৩ জন ভোটার আজ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ৪ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩৯৫। কিন্তু এই পরিসংখ্যানের সমান্তরালে আরও এক হিসাব ঘুরছে জনমনে—কতজন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লেন। সরকারি তথ্য বলছে, এসআইআরের খসড়া তালিকায় প্রথম দফাতেই বনগাঁ মহকুমায় বাদ পড়ে ৩৬ হাজার ৯০১ জনের নাম। এরপর শুরু হয় ‘বিচারাধীন’ তালিকা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া। মোট ৬১ হাজার ৪৮০ জন ছিলেন ‘বিচারাধীন’। সেই তালিকা যাচাই করে ৪৮ হাজার ৪৯৩ জনকে ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। মাত্র ১২ হাজার ৯৮৭ জনকে ‘যোগ্য’ বলে তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৮৫ হাজার ৩৯৪ জনের নাম বাদ পড়া নিয়ে এখন বনগাঁজুড়ে চলছে তীব্র চর্চা। এক্ষেত্রে বিধানসভা ভিত্তিক ছবিটা আরও প্রকট। বাগদায় ‘বিচারাধীন’ ১৩ হাজার ৪৫৯ জনের মধ্যে ১০ হাজার ১৭ জনের নামই বাদ গিয়েছে। বনগাঁ উত্তরে ১২ হাজার ২৯৬ জনের মধ্যে বাদ পড়েছে ৮ হাজার ২৮০। বনগাঁ দক্ষিণে ১৩ হাজার ৪৪৭ জনের মধ্যে ‘অযোগ্য’ ১০ হাজার ৫৫৮। সব থেকে বড় ধাক্কা গাইঘাটায়। এই বিধানসভা এলাকায় বিচারাধীন ২২ হাজার ২৭৮ জনের মধ্যে ১৯ হাজার ৬৩৮ জনকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করা হয়েছে। সংখ্যার বিচারে এই হারই সর্বাধিক। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। পালটা বিজেপি বলছে, প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই হয়েছে। যাবতীয় বিতর্কে আর একটি কথাও ফিরে ফিরে আসছে। তা হল, বাদ পড়া নামের সিংহভাগই মতুয়া সম্প্রদায়ের। তাই বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে মানুষের ক্ষোভও স্পষ্ট। বহু পরিবারে একাধিক সদস্যের নাম তালিকা থেকে উধাও হয়ে যাওয়ায় বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকের দাবি, তাঁরা জানতেই পারেননি কখন বা কীভাবে তাঁদের নাম বাদ গেল। ভোটের দিন এসে পড়ায় সেই আইনি লড়াই আপাতত পিছনে পড়ে আছে। সব মিলিয়ে মতুয়াগড়ে যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে, এদিন ইভিএমে সেই ক্ষোভই আছড়ে পড়বে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মতুয়াগড়ে ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে একটাই বার্তা—‘অপমানের জবাব ব্যালটে।’ কেউ বলছেন প্রতিবাদের ভোট। কেউ বলছেন প্রতিরোধের ভোট। বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার প্রভাব কতটা পড়বে ফলাফলে, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। উত্তর মিলবে ৪ মে। 
  • Link to this news (বর্তমান)