• জঙ্গি ছেড়ে ভোটে সুতলি বোমা খুঁজবে এনআইএ!
    বর্তমান | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: ২৬/১১ মুম্বইয়ে লস্কর-ই-তোইবার হামলার পর তৈরি হওয়া ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) আজ, বাংলার শেষ দফার ভোটে সুতলি বোমা (পেটো) খুঁজবে। ইন্টারন্যাশনাল টেরর মডিউল, টেরর ফান্ডিং, আইইডি’র উৎস, আরডিএক্স ও জাল নোট পাচারের আন্তর্জাতিক চক্র খোঁজা যে এলিট এজেন্সির কাজ, তাদের রাজ্যের ছয় জেলায় বোমা খুঁজতে পাঠানোর ঘটনায় আলোড়ন পড়েছে। কোনো রাজ্যে ভোটের দিন এই প্রথম এনআইএকে ‘সক্রিয়’ থাকার নির্দেশ দেওয়াটা নজিরবিহীন। গত ২৫ এপ্রিল ভাঙড়ের উত্তর কাশীপুর থানার মাঝেরহাট গ্রামে ৭৯টি দেশি বোমা উদ্ধার করেছিল কলকাতা পুলিশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে ২৬ এপ্রিল এই মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ। এরপরই নির্বাচন কমিশন তাদের ‘নির্দেশ’ দেয়, দ্বিতীয় দফার ভোটে রাজ্যের কোথাও যেন বোমা না পড়ে। জঙ্গি দমনে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করা এনআইএ আলাদা আলাদা টিম তৈরি করে মঙ্গলবার থেকেই তাই ‘পেটো’ খুঁজতে বেরিয়েছে। 

    প্রায় আড়াই লক্ষ আধাসেনা জওয়ান, বুলেট প্রুফ সাঁজোয়া গাড়ি তো ছিলই, এবার তাতে জুড়েছে এনআইএ। পহেলগাঁওয়ের হামলাকারীরা কি লুকিয়ে আছে বাংলায়? ‘অপারেশন সিঁন্দুর-২’ কি তবে বাংলার শেষ পর্যায়ের ভোটেই শুরু হবে? এই কটাক্ষ তৃণমূলের। এদিন এনআইএ অবশ্য বর্ধমানের খাগড়াগড়েও বোমা খুঁজতে চলে গিয়েছে। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর খাগড়াগড়ে জেএমবি মডিউলের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত করেছিল এনআইএ। একযুগ পরে সেই খাগড়াগড় ফের বোমা বানাচ্ছে কি না, তা ‘যাচাই’ করছে এজেন্সি। বোমার খোঁজ চলছে গোসাবা, বাসন্তী, কুলতলি, ভাঙড়, হাড়োয়া, কসবা, তিলজলা, হালিশহর, জগদ্দল, ভাটপাড়া, টিটাগড়, করিমপুর, চাপড়ার মতো বেশ কিছু এলাকায়। 

    সবচেয়ে বড়ো কথা, হিংসায় জ্বলতে থাকা মণিপুর থেকেও বিপুল সংখ্যক বাহিনী কমিশনের নির্দেশে নিয়ে আসা হয়েছে বাংলায়। সংখ্যাটা ৮৫০০। মণিপুর রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন যা নিয়ে বিস্মিত এবং উদ্বিগ্ন! সোমবার দিনভর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মণিপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করেছে। আলোচনা করেছে মণিপুর পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে। সেখানেই মণিপুর পুলিশ জানতে চেয়েছে, বাংলার ভোটের জন্য যে ৮৫ কোম্পানি আধাসেনা তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তারা ফিরবে কবে। বাংলায় ভোটপর্ব মেটার পরও আধাসেনা রয়ে যাবে বলে যে নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশন জারি করেছে, তার ভিত্তিতে মণিপুরের বাহিনীও রয়ে যাবে কি না, সেটাই জানতে চাইছে ইম্ফল প্রশাসন। বাহিনী কমে যাওয়ায়, শঙ্কায় রয়েছে উপদ্রুত মণিপুর। বাংলার পরিস্থিতি কি মণিপুরের থেকেও বেশি উদ্বেগের?
  • Link to this news (বর্তমান)