• চড়া রোদে ব্যাকফুটে বিরিয়ানি, দুপুরের মেনু তাই মুরগির ঝোল
    এই সময় | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • শ্যামগোপাল রায়

    তপ্ত রোদে পুড়ছে পিচগলা রাস্তা। পারদ ছাপিয়ে যাচ্ছে ৩৪ ডিগ্রি। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে উত্তাপের খামতি নেই। ভোটের ময়দানে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা বলবে ইভিএম। কিন্তু তার আগে কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে ‘পেটপুজোয়’ কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজনৈতিক দলগুলি। আজ, বুধবার ভোটের দিন কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে তল্লাটে তল্লাটে এলাহি খাবারের আয়োজন করেছে সব পক্ষই। তবে এ বারের মেনুতে বড়সড় বদল এনেছে তীব্র গরম। কর্মীদের আব্দার সামলাতে গিয়ে নেতাদের পকেটে টান পড়লেও, স্বাস্থ্য সচেতনতায় অনেকেই মেনু থেকে বাদ দিয়েছে বিরিয়ানিকে।

    বরাহনগরে তৃণমূলের ভোট ম্যানেজার দিলীপ নারায়ণ বসু (সনু) স্থানীয় একটি ক্যাটারিং সংস্থাকে কর্মীদের খাবারের বরাত দিয়েছেন। সকালে লুচি আর আলুর দম দিয়ে শুরু হলেও দুপুরে থাকছে আলু পোস্তর সঙ্গে মুরগির পাতলা ঝোল। সঙ্গে অবশ্যই টক দই। সনুর কথায়, ‘কর্মীরা সকাল থেকে রোদে দাঁড়িয়ে লড়াই করবে। ওদের একটু ভালোমন্দ না খাওয়ালে চলে? তাই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’ কলকাতার চিরকালীন প্রিয় ‘বিরিয়ানি’ এবার ব্রাত্য অনেক শিবিরেই। বাঙুরের বিজেপি নেতা মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্যর কথায়,‘গরম যে হারে বাড়ছে, তাতে বিরিয়ানি খেলে কর্মীরা সুস্থ থাকবে না। তাই মুরগির হালকা ঝোল আর ভাতই সেরা।’ কর্মীদের একাংশ অবশ্য এতে কিছুটা হতাশ। এক কর্মীর রসিকতা, ‘ভোটের দিন একটু বিরিয়ানি না হলে জমে?’

    কর্মীদের অনুরোধ মেনে অবশ্য অন্যবারের মতো এবা রেও ভোটের বিরিয়ানির ব্যবস্থা করেছেন যাদবপুরের তৃণমূল কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘ভোটের দিন বিরিয়ানির কোন বিকল্প নেই। ঝামেলাও কম। একটা আইটেমেই হয়ে যায়।’ কর্মীদের জন্য তিনি ১২০০ প্যাকেট বিরিয়ানির অর্ডার তিনি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাপ্পাদিত্য।

    রাজারহাট-গোপালপুরে কংগ্রেসে নেতা কাবু বাগুইয়ের নেতৃত্বে ভোটের মেনুতে সকালে থাকছে নানপুরি, ছোলার ডাল আর বোঁদের মেলবন্ধন। দুপুরে আবার েদওয়া হবে জিরা রাইস আর চিকেন কষা। কাবুর কথায়, ‘কর্মীদের পেট চাঙ্গা থাকলে, জোশও ভালো থাকবে।’

    দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জে চয়ন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সিপিএম কর্মীদের জন্য মেনু কার্ডটি বেশ সংযত। সকালের তাড়াহুড়োয় লাল চা আর বিস্কুট-কেক। তবে দুপুরে মধ্যবিত্তের স্বাদ মেনেই রুটি, আলুর দম আর ডিম কারি। লাল শিবিরের কর্মীদের মতে, বিলাসিতা নয়, লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকাই আসল কথা। সব মিলিয়ে, ব্যালট বক্সের লড়াইয়ের সমান্তরালে পাল্লা দিয়ে চলছে রসনা তৃপ্তির লড়াই। গরমকে টেক্কা দিয়ে কোন দলের পাতে জয়ের স্বাদ লেগে থাকে, এখন সেটাই দেখার।

  • Link to this news (এই সময়)