এই সময়, ফলতা: সোমবার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে 'হুঁশিয়ারি' দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ফলতায় তাঁর কনভয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন জাহাঙ্গির খানের অনুগামীরা। এ দিন সকাল থেকেই ফলতা বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে রুট মার্চ করেন অজয় পাল শর্মা। সঙ্গে ছিলেন সিআরপিএফের ডিজি।
কামারডাঙা খানপাড়ায় জাহাঙ্গির খানের দলীয় কার্যালয়ের পাশে সম্ভাব্য গন্ডগোলকারীদের একটি তালিকা নিয়ে খোঁজখবর নেন অজয়। বিক্ষোভকারীদের তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, বিজেপির প্ররোচনায় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছেন পুলিশ পর্যবেক্ষক। স্থানীয় বাসিন্দা আরজিনা বিবি ও নুরজামাল খানের দাবি, 'এখানে কোনও অশান্তি হয়নি। তবুও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এসে দাদাগিরি করা হচ্ছে। বিজেপির কথায় মানুষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।'
এ দিন বেলা দুটো নাগাদ শ্রীরামপুর এলাকা থেকে নুর ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, গাড়িতে তুলে তাঁকে মারধর করা হয় এবং কোন দলে ভোট দেন তা জানতে চাওয়া হয়। পরে বাড়ি ফিরে নুর ইসলাম বলেন, 'এই রকম জুলুম আগে দেখিনি। বিনা কারণে আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে।' ঘটনার পর তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান বলেন, 'কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। তবুও তৃণমূল কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করার চেষ্টা চলছে। উনি বিজেপির কথায় চলছেন।'
সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার জন্য জাহাঙ্গির ও তাঁর দলবলকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পন্ডা। তাঁর দাবি, 'যেখানে আইপিএস অফিসার এবং সিআরপিএফের ডিজির নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা থাকবে কী ভাবে? ভোটারদের কালো চশমা পরিয়ে অন্ধ সাজিয়ে ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হবে। তাদের সঙ্গে আত্মীয় সাজিয়ে দেওয়া হবে একজন করে তৃণমূলকর্মীকে। সে জন্য প্রচুর কালো চশমা কেনা হয়েছে।' উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এ দিন ফলতার জয়েন্ট বিডিওকে সরিয়ে দেয় কমিশন। আগেই ফলতার বিডিও শানু বক্সিকে সরিয়ে দিয়েছিল। এ বার কাজে গাফিলতির অভিযোগে জয়েন্ট বিডিও সৌরভ হাজরাকেও সরানো হলো।
রাত সাড়ে আটটা নাগাদ অজয় পাল শর্মা এসে পৌঁছন সরিষা বাজারে। ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে রুট মার্চ শুরু করেন তিনি। সেখানেই মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী সামিম আহমেদের দলীয় কার্যালয়। তিনি ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার কো-অর্ডিনেটরও। কিছুক্ষণ টহলের পর গাড়ি ঘুরিয়ে ডায়মন্ড হারবার পুরসভার দিকে চলে আসেন অজয়।