আশিস নন্দী
স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (সার) মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া মতুয়াদের ক্ষোভ আর আক্ষেপের আবহেই বুধবার ভোট উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়াগড়ের চার বিধানসভা কেন্দ্রে। নাম বাদ পড়া মতুয়া ভোটারদের আক্ষেপ একটাই। বহু বছর ধরে এ দেশে বসবাস করে প্রতিটি নির্বাচনে সামিল হয়েছেন তাঁরা। কিন্তু এ বার সবাই ভোট দিলেও তাঁদের দূর থেকে দাঁড়িয়ে ভোটের লাইন দেখতে হবে।
মতুয়াগড় বনগাঁ মহকুমার চারটি বিধানসভা কেন্দ্র হলো বাগদা, বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ ও গাইঘাটা। সব কেন্দ্রেই মতুয়াদের বাস বিপুল সংখ্যায়। এই চার কেন্দ্রে মোট ৯ লক্ষ ১৮ হাজার ৩৩ জন ভোটার বুধবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ৪ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩৯৫। কিন্তু এই পরিসংখ্যানের বাইরেও নাম বাদ পড়া - বিপুল সংখ্যক ভোটার রয়েছে।
বনগাঁ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, খসড়া তালিকায় প্রথম দফাতেই মতুয়া গড়ের চার কেন্দ্র থেকে বাদ পড়েছে ৩৬ হাজার ৯০১ জনের নাম। ৬১ হাজার ৪৮০ জন ছিলেন বিচারাধীন। সেই তালিকা যাচাই করে ৪৮ হাজার ৪৯৩ জনকে 'অযোগ্য' বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। মাত্র ১২ হাজার ৯৮৭ জন 'যোগ্য' হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে দুই পর্যায়ে মোট ৮৫ হাজার ৩৯৪ জনের নাম বাদ পড়া নিয়ে ভোটের আগের দিনেও বনগাঁ জুড়ে চর্চা হয়েছে। বাগদায় বিচারাধীন ১৩ হাজার ৪৫৯ জনের মধ্যে ১০ হাজার ১৭ জনের নাম বাদ। বনগাঁ উত্তরে ১২ হাজার ২৯৬ জনের মধ্যে বাদ ৮ হাজার ২৮০। বনগাঁ দক্ষিণে ১৩ হাজার ৪৪৭ জনের মধ্যে অযোগ্য ১০ হাজার ৫৫৮। সব থেকে বড় ধাক্কা গাইঘাটা কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের দাদা সুব্রত ঠাকুর। গাইঘাটায় বিচারাধীন ২২ হাজার ২৭৮ জনের মধ্যে ১৯ হাজার ৬৩৮ জনেরই নাম বাদ গিয়েছে। তাদের সিংহভাগই মতুয়া। বহু পরিবারে একাধিক সদস্যের নাম একসঙ্গে তালিকা থেকে উধাও হয়ে যাওয়ায় বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ দুই চরমে।
বুধবার সকাল থেকেই বুথমুখী হবেন ভোটাররা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের মধ্যে আক্ষেপের সুর। তাঁদের একটাই কথা, 'বহু ভোটে অংশ নেওয়ার পরেও আজ আমরা বেনাগরিক। ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হলাম।' সেই আক্ষেপ আর ক্ষোভের আবহেই বুধবার ভোট হচ্ছে মতুয়া গড়ে।
এই প্রসঙ্গে গাইঘাটা কেন্দ্রের নাম বাদ যাওয়া ভোটার প্রদীপ বালা বলেন, 'এখানে আমরা গত ৪০ বছর ধরে রয়েছি। এত বার ভোট দিয়েছি। আমাদের ভোটে পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা, লোকসভার সদস্য হয়েছেন। ভারতে বসবাসের নথিও আছে। কিন্তু এ বার আমরা গণতন্ত্রের উৎসব থেকে ব্রাত্য থেকে গেলাম।' দীপালি হালদার বলেন, 'কবে আমরা এ দেশে নাগরিক হতে পারব জানি না। কিন্তু এ বারই প্রথম ভোট দিতে পারব না। ভোটের লাইন দূর থেকেই দেখতে হবে।'
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তো আগে বলেছিলেন, একজন হিন্দু, মতুয়া ভোটারের নাম বাদ যাবে না। তবুও এতজন মতুয়ার নাম বাদ গিয়েছে। বিজেপির জন্যই মতুয়ারা এ বার ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হলেন। যে সব মতুয়া শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাঁরা এর জবাব ইভিএমে দেবেন।' বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী মতুয়াদের আশ্বস্ত করেছেন ঠাকুরনগরের সভায়। মতুয়ারা প্রধানমন্ত্রীর গ্যারান্টিতেই ভরসা রেখেছেন।'