প্রদীপ চক্রবর্তী, চুঁচুড়া
কয়েক ঘণ্টা পরেই রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। হুগলি জেলার ১৮টি বিধানসভার ১৫৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজ। ভোটগ্রহণের জন্য ইভিএম-সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কাগজপত্র সংগ্রহ করতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভোটকর্মীরা ভিড় জমিয়েছিলেন চুঁচুড়া ডিসিআরসি অফিসে। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, কেউ রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোনোর জন্য বালিশ বগলদাবা করে এনেছেন, কেউ আবার এসেছেন ছোট্ট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে। আবার কেউ মাতৃ বিয়োগের যন্ত্রণা বুকে নিয়েই ভোটের ডিউটি করতে এসেছেন।
প্রথম দফায় মেদিনীপুরের সবংয়ে ভোটের কাজ করে এসেছেন স্কুল শিক্ষক জগন্নাথ কুণ্ডু। সেই পর্ব মিটিয়ে শেষ দফায় তাঁর ডিউটি পড়েছে চুঁচুড়া বিধানসভায়। এ দিন সকালে কাঁধে ব্যাগ, তাতে মশারি, মুড়ি-শশা-চানাচুর আর হাতে ঝোলা ব্যাগে বালিশ নিয়ে চুঁচুড়া ডিসিআরসিতে হাজির জগন্নাথ। ভোটের কাজে এসে সঙ্গে বালিশ কেন? একগাল হেসে জগন্নাথ বললেন, 'ভোটের দিন ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকতে হয়। মানিসক চাপও থাকে। তাই আগের রাতে একটু ঘুমিয়ে শরীরকে চাঙ্গা করে নিতে বালিশ চাই।'
তাঁর সংযোজন, '২৩ তারিখ সবংয়ে ডিউটি করেছি। পরের দিন সকাল ছ'টায় বাড়ি ফিরেছি। ক্লান্তি আছে। তাও কর্তব্য পালনের জন্য বিশ্রাম দরকার। বালিশ ছাড়া শুয়ে অভ্যস্ত নই। বালিশ থাকলে ঘুম ভালো হয়। ভোট নেওয়া একটা টিম ওয়ার্ক। একজনের শরীর খারাপ হয়ে বসে গেলে, সমস্যা হয়। কেউ যেন না বলে, উনি পারছেন না। তাই নিজের যত্ন নিই।' ঘাটালের শোভাগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জগন্নাথের কথায়, 'নির্বাচন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ হওয়া নিয়ে আমি আশাবাদী। কমিশন যেমন ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে প্রথম দফায় যেমন ভোট হয়েছে, তা দেখে মনে হচ্ছে, শেষ পর্বেও নির্বিঘ্নে ভোট হবে।' তাঁর সংযোজন, 'ভোটে অশান্তি হলে বাড়ির লোক দুশ্চিন্তা করে। শান্তি বজায় থাকলে সবারই ভালো।'
ভোটের দায়িত্ব পালন করতে ছোট্ট মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে চুঁচুড়া ডিসিআরসিতে এসেছিলেন পোলবার রাজহাটের বাসিন্দা তথা দাঁড়পুর জুনিয়র বেসিক স্কুলের শিক্ষিকা সামিমা খাতুন। তিনি জানালেন, মেয়ে মাকে ছাড়া থাকে না। রাতে তো মাকে ছাড়া ঘুমোবেই না। মায়ের ভোটের ডিউটি পড়েছে, তাই মায়ের হাত ধরে সে-ও হাজির। সামিমার কথায়, 'মা ভোটের কাজে যাবে শুনে মেয়ে খুব কান্নাকাটি করছিল। তাছাড়া মেয়ের শরীরটা একটু খারাপ আছে। তাই আমি মেয়েকে নিয়েই এখানে চলে এসেছি।'
সামিমা জানিয়েছেন, তাঁকে সম্ভবত রিজার্ভে রাখা হবে। কিন্তু ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে থাকতে হলে, মেয়ের কী হবে, সেই কথা ভেবে মেয়েকে নিয়েই ডিসিআরসি'তে চলে এসেছেন। মায়ের সঙ্গে আসতে পেরে মেয়েও খুব খুশি।
মাত্র ১৪ দিন আগে মাতৃবিয়োগ হয়েছে ডিভিসির কর্মী জিতেন্দ্রনাথ গড়াইয়ের। বুধবার, ভোটের দিন মায়ের ঘাট কাজ। কিন্তু কর্তব্যে অবিচল জিতেন্দ্র প্রথম দফার পরে দ্বিতীয় দফাতেও ভোটের ডিউটি করতে বাঁকুড়া থেকে চুঁচুড়ায় এসেছেন। হুগলি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজের ডিসিআরসিতে তাঁর দেখা পাওয়া গেল। বাঁকুড়া গঙ্গাজলঘাটির বাসিন্দা জিতেন্দ্র প্রথম দফার ভোটে রানিবাঁধে ডিউটি করেছেন। দ্বিতীয় দফায় তাঁকে দেওয়া হয়েছে চুঁচুড়ায়। জিতেন্দ্রর সহকর্মী গিরিধারী বাদ্যকরেরও ডিউটি পড়েছে চুঁচুড়ায়। দু'জনে ট্রেনে করে চুঁচুড়া এসেছেন। গিরিধারী বলেন, 'যাতায়াতের জন্য কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। প্রথম দফার ভোটে কোতুলপুরে ডিউটি করেছি। এ বার চুঁচুড়ায় ডিউটি দিয়েছে। বলেছে, রিজার্ভে রাখবে।'