সোমনাথ মণ্ডল
সোমবার রাত ১২টা। হঠাৎ টুং করে মোবাইল ফোনে এসএমএস, ‘আপনাকে সোনারপুরে ভোটের কাজে যেতে হবে।’ এসএমএস যিনি পেলেন, তিনি বাংলায় এ বারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় পশ্চিম মেদিনীপুরে ভোটের দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে আজ, বুধবার কলকাতায় নিজের কেন্দ্র ভোট দেবেন বলে তিনি ঠিক করেছিলেন। কিন্তু সোমবার মধ্যরাতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, তাঁকে সোনারপুরের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে কর্মরত ওই ব্যক্তির অনুযোগ, তাঁর নামে আগে পোস্টাল ব্যালট ইস্যু করা হয়নি। ফের ভোটের ডিউটির বার্তা আসায় তাঁর নিজের ভোট দেওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘আমার গণতান্ত্রিক অধিকার কেন খর্ব করা হবে? আগে থেকে কেন ডিউটির বিষয়ে জানানো হলো না? ভোটের ডিউটিতে গিয়ে আমি নিজেই তো ভোট দিতে পারব না!’
অনেককেই আবার রাতারাতি ‘ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথ’ (ভ্যাব)–এ ডিউটি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, ‘এক জন ভোটারকে সাহায্যের সময়ে কোন কোন বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে? তার ট্রেনিং অনেকেই পাননি।’ সূত্রের খবর, যেখানে ভোট প্রথম দফায় হয়ে গিয়েছে, সেই পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলা তো বটেই, সেই সঙ্গে যে সব জেলায় আজ ভোট, সে সব জেলা থেকেও ভোটকর্মীদের নিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু প্রথম দফায় ভোটের ডিউটি করার পরেও ফের দ্বিতীয় দফায় ভোটের ডিউটি হঠাৎ আসায় হাজার পাঁচেক ভোটকর্মী সমস্যায় পড়েছেন বলে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চর সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘হঠাৎই ভোটের ডিউটি আসায় অনেকে দ্বিতীয় দফায় ভোট দিতে পারবেন না। এ নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) অফিসে আমরা অভিযোগ জানিয়েছি।’
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চর দাবি, দ্বিতীয় দফার ভোটের দেড় দিন আগে হঠাৎই অনেকে ভোটের ডিউটি দিতে হবে বলে মোবাইল ফোনে মেসেজ কিংবা ই–মেল পেয়েছেন। যাতায়াতের খরচ তো আছেই, সব চেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে। অধিকাংশের জন্য আগে থেকে কোনও পোস্টাল ব্যালট ইস্যু করা হয়নি।
আবার, দ্বিতীয় দফার ভোট শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে ভোটকর্মীদের একাংশ অন্য একটি সমস্যাতেও পড়েছেন। ডিউটির জন্য নিজের জেলার বাইরে অন্য জেলায় তাঁদের তলব করা হলেও কোথাও মঙ্গলবার সন্ধেয়, কোথাও রাতে থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, এখন আর তাঁদের প্রয়োজন নেই! ততক্ষণে কিন্তু তাঁরা অন্য জেলায় ভোটের ডিউটি দিতে পৌঁছে গিয়েছেন। রাতে কী ভাবে তাঁরা নিজের জেলায় ফিরবেন, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি, এমনটা অভিযোগ।