এই সময়, আরামবাগ: আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগ আক্রান্ত হওয়ার পরে কেটে গিয়েছে ২৪ ঘণ্টা। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এখনও পর্যন্ত। এই তিনজনই বিজেপি কর্মী বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। অন্য দিকে, সোমবারই গোঘাটের বর্মায় সংঘর্ষের ঘটনায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিতালি বাগের গাড়িতে হামলার ঘটনায় ধৃত তিনজন এবং গোঘাটের বর্মায় অশান্তির ঘটনায় ধৃত ১৬ জনকে মঙ্গলবার আরামবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
ধৃত বিজেপি কর্মীদের নাম সিন্টু সাঁতরা, সনাতন সাঁতরা ও রাজকুমার রায়। ধৃতদের সাত দিন নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। তাদের জেরা করে এই দুই হিংসাত্মক ঘটনায় আর কারা জড়িত, সে বিষয়ে জেনে, তাদের ধরার চেষ্টা করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এ দিকে, বর্মার ঘটনায় ধৃতরা তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে জানা গিয়েছে।
সোমবার ঘটনার পরেই উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। তাঁকে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবারও তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই ঘটনার পরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আরামবাগ ও গোঘাটের বিভিন্ন এলাকা। মিতালি বাগ আক্রান্ত হওয়ার পরে তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মিতালির সঙ্গে কথা বলেন। তাঁকে দলীয় ভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে যান অভিষেক।
তবে ঘটনার পরেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে এলাকায়। শুরু হয়েছে একে অন্যকে দোষারোপের পালাও। ঘটনার তদন্তে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়ে নির্বাচন কমিশনও। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের সুপার নিজেও আসেন। এ দিকে, মিতালিকে আক্রমণের ঘটনায় বিজেপির প্রার্থী প্রশান্ত দিগার দাবি করেছেন, 'ভোটের আগে জন সাধারণের সহানুভূতি আকর্ষণ করতে মিতালি বাগ নাটক করেছেন। নিজেদের লোকেরাই ওঁর গাড়ি ভেঙেছে। এখন নাটক করে পালে হাওয়া টানছেন। ওঁর গাড়ি বিজেপির লোকজন মোটেই ভাঙেনি। বিজেপি এই কালচারে বিশ্বাসী নয়। যাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, তাঁরা নিরীহ। ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই। এঁরা গোঘাট বাসস্টপের যাত্রী শেডে বসেছিলেন। আমি থানায় ছিলাম কর্মসূচিতে। হঠাৎ পুলিশ এসে ওঁদের তুলে নিয়ে যায়। এটা চক্রান্ত। আমাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ভালো করে তদন্ত করে দেখুক। আমি সবাইকে বলে দিয়েছি, যাতে কেউ কোনও অশান্তি না করে। কারণ, বিজেপির এখন এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর দরকারই নেই। মিথ্যা অভিযোগ করে, নাটক করলেন মিতালি বাগ। আমরা এর প্রতিবাদ করছি। ওঁর কিছুই হয়নি।'
অন্য দিকে, সাংসদ মিতালি বাগ রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, 'পুলিশ তো তিনজন বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। কেন করল? ওরা পরিকল্পিত ভাবে আমার গাড়ি আটকায়। তখনই বিজেপির গুন্ডারা লাঠি, বাঁশ, পাথর দিয়ে গাড়ি ভাঙতে থাকে। নির্বাচন কমিশনকে এর জবাব দিতে হবে। আমাকে আক্রমণ করার জন্য নির্বাচন কমিশনই দায়ী। আমি শুনেছি, একটা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, এই ঘটনা নাকি তৃণমূলের দলীয় কোন্দলের জের। আমার প্রশ্ন, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা কারা? সেটা চিহ্নিত করুক নির্বাচন কমিশন। ঘটনার প্রকৃত ফুটেজ প্রকাশ করুক তারা। আমি দাবি তুলছি। রাজ্যটাকে নেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এই অশান্তির জন্য দায়ী অমিত শাহ। তিনিই তো বলে গিয়েছেন যে, উল্টে ঝুলিয়ে মারব। তা হলে এই অশান্তির মূলে কারা কারা আছে, তা বুঝুন। এর জবাব কিন্তু মানুষ দেবেন। আমার মতো এক তফশিলি জাতিভুক্ত মেয়েকে এই ভাবে আক্রমণ করা হলো, এটা কীসের পরিচয়।'
যদিও হুগলি জেলা গ্রামীণ পুলিশের সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, 'গোটা পরিস্থিতি শান্তই আছে। বিভিন্ন স্থানে টহল চলছে। নতুন করে কোনও অশান্তি হয়নি। সাংসদের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজন আর বর্মার ঘটনায় এক জন মহিলা-সহ মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নজরেই আছে।'
বিজেপির প্রচার মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার পরে মঙ্গলবার থমথমে ছিল গোঘাটের বর্মা এলাকা। গোটা বর্মা গ্রাম কার্যত শুনশান। রাস্তায় প্রয়োজন ছাড়া লোকজন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। ফাঁকা গ্রামে শুধুই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুটের শব্দ শোনা যাচ্ছে। গোঘাটের বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার এ দিন বলেন, 'মিতালি বাগ আমাদের সাংসদ। শুনেছি, উনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রাজনৈতিক সৌজন্যতার খাতিরে ওনার সঙ্গে দেখা করতে যেতেই পারি। ভোট মিটলেই ওনাকে দেখে আসব।'