এই সময়: সাধারণত কোথাও নাশকতামূলক কাজ হলে ডাক পড়ে এই কেন্দ্রীয় সংস্থার। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ-তৈরি হয়েছিল মূলত কাউন্টার-টেররিজ়ম বা সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সংস্থা হিসেবে কাজ করার জন্য। কিন্তু এ বার ভোটের নিরাপত্তাও দেখবে সেই এনআইএ।
বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটে অন্তত সাতটি কেন্দ্রে এনআইএ-কে দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। এমন ঘটনা প্রায় নজিরবিহীন। এর আগে কোনও ভোট সামলাতে এনআইএ-র ডাক পড়েনি। প্রথম দফার ভোটে সেই অর্থে কোনও গোলমালের ঘটনা ঘটেনি। দ্বিতীয় দফার আগে কয়েকটি জায়গায় গোলমালের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনও বিস্ফোরণের অভিযোগ না থাকলেও বিপুল পরিমাণ বোমা বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই ঘটনাগুলিও দেখছে এনআইএ।
রাজ্যে এই মুহূর্তে প্রতি ১০০ জন ভোটার পিছু একজন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান রয়েছে। বাহিনীর বিপুল সংখ্যক জওয়ানরা বড় রাস্তা থেকে শুরু করে অলিতে-গলিতে টহল দিচ্ছে। কড়া নজরদারিতে প্রথম দফার ভোটে কয়েকটি বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ছাড়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণই ভোট হয়েছে। এ বার দ্বিতীয় দফায় কোনও নাশকতামূলক ঘটনা ঘটলে যাতে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এনআইএ-কে ডাকা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, মোট ৭টি জায়গায় মোতায়েন থাকবে এনআইএ-র টিম। হুগলি, কসবা, ভাঙড়, বর্ধমান, নদিয়া, বারুইপুর, বিষ্ণুপুরে মোতায়েন রাখা হবে কেন্দ্রীয় সংস্থা। মঙ্গলবার রাতে এনআইয়ের দল বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যাবে। অতীতে ভোটে হিংসার রেকর্ড মাথায় রেখে ভাঙড়ের নামও রাখা হয়েছে তালিকায়। প্রায় ১২ বছর আগে বর্ধমানের খাগড়াগড়ের একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত করছে এনআইএ। সেই সূত্রে বর্ধমানেও থাকছে এনআইএ–র একটি দল। এ ছাড়া কলকাতার কসবায় থাকবে এনআইএ টিম। সম্প্রতি মালদার কালিয়াচকে সাত বিচারককে আটকে রাখার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল, তারা কেন্দ্রীয় যে কোনও এজেন্সিকে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে। সেই ঘটনার তদন্তভারও কমিশন এনআইএ-কে দিয়েছিল।