• ভোটের আগে বালিতে ধৃত তৃণমূলের একাধিক এজেন্ট
    এই সময় | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, বালি: ভোটের আগে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তারি নিয়ে সোমবার রাতে উত্তেজনা ছড়াল বালিতে। প্রতিবাদে মাঝরাতে বেলুড় থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন বালির তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র। পরে পুলিশ তাঁকে জোর করে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছে শাসকদল। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলাও দায়ের করেছে তৃণমূল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার মধ্যরাতে বালিতে তৃণমূলের এক বুথ সভাপতি-সহ একাধিক এজেন্টকে গ্রেপ্তার করতে আসে পুলিশ। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন বালির তৃণমূল প্রার্থী-সহ দলের নেতা-কর্মীরা। তা নিয়ে তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে পুলিশের বচসা বেঁধে যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, বালির সতীশ চক্রবর্তী লেন-সহ একাধিক জায়গায় বাড়িতে হানা দিয়ে তৃণমূলের কয়েকজন এজেন্টকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় বালি ও বেলুড় থানার পুলিশ। সেখানে পৌঁছে তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র পুলিশের কাছে কর্মীদের গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চান।

    তা নিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বচসা শুরু হয় এক পুলিশ আধিকারিক প্রার্থীকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেন। তৃণমূল কর্মীদের একপ্রকার জোর করেই গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায় পুলিশ। এরপরেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে বেলুড় থানায় যান কৈলাস। সেখানে বেলুড় থানার ভারপ্রাপ্ত আইসি'র সঙ্গে প্রবল বচসা শুরু হয় কৈলাসের।

    তিনি পুলিশ আধিকারিকদের কাছে জানতে চান, কেন ভোটের আগে কর্মীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হলো? তাঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে? কিন্তু থানার আইসি কোনও স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি বলে তৃণমূলের দাবি। এতে ধৃতদের পরিবারের লোকেরাও থানার সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তা নিয়ে এলাকায় রীতিমতো উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বেলুড় থানার সামনে বিক্ষোভ অবস্থান শুরু করেন কৈলাস ও তাঁর অনুগামীরা।

    মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে কৈলাস মিশ্র বলেন, 'কোনও রকম ওয়ারেন্ট ছাড়াই মাঝরাতে ওয়ার্ড সভাপতি-সহ বুথ এজেন্টদেরকে বাড়িতে হানা দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশকে জিজ্ঞেস করলে বলছে, অবজার্ভারের নির্দেশ। অথচ, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা'র পরেও বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে বিজেপি প্রার্থীকে এলাকায় ঘুরতে দেখা গিয়েছে। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টে গভীর রাতে তৃণমূলের বুথ এজেন্টের বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছে পুলিশ।'

    কৈলাসের কথায়, 'আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি ও পুলিশ আধিকারিককে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনাদের কাছে কর্মীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ওয়ারেন্ট থাকলে দেখান। কিন্তু কোনও সদুত্তর না দিয়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে এই কাজ করা হচ্ছে।' কৈলাস জানান, এই ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের বুথ এজেন্ট রাহুল রায়, রমেন নিয়োগী, রাকেশ চক্রবর্তী ও সোনু পাল। রমেন ও রাকেশ যুব তৃণমূলের ব্লক সহ-সভাপতি। রাহুল বালি ব্লক যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। বালির ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুব তৃণমূল সভাপতি সুরজিৎ বিশ্বাসের বাড়িতে পুলিশি তাণ্ডবের অভিযোগ করেছেন কৈলাস।

  • Link to this news (এই সময়)