• নজরদারির লিস্টে মৃত নেতারও নাম! তৃণমূলের প্রশ্নের মুখে কমিশন
    এই সময় | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, বর্ধমান: ভোটের মুখে নির্বাচন কমিশনের একটি নজরদারি তালিকাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলায়। জেলাশাসক ও জেলা পুলিশের কাছে পাঠানো কমিশনের ওই তালিকায় এমন এক ব্যক্তির নাম রয়েছে, যিনি গত বছরই প্রয়াত হয়েছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

    ওই তালিকায় নাম রয়েছে তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্য মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাসের। অসুস্থতার কারণে ২০২৫-এর ১ অগস্ট তিনি মারা যান। একজন মৃত ব্যক্তির নাম সক্রিয় নজরদারি-তালিকায় থাকায় অস্বস্তিতে প্রশাসন। এ ছাড়াও তালিকায় নাম রয়েছে একঝাঁক হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থী ও নেতাদের নাম। রয়েছে বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাস, মেমারির প্রার্থী রাসবিহারী হালদার, ভাতারের প্রার্থী শান্তনু কোঁয়ার ও খণ্ডঘোষের ব্লক তৃণমূল সভাপতি অপার্থিব ইসলাম ওরফে ফাগুনের নাম।

    তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই তালিকা আদতে বিজেপির কার্যালয় থেকে তৈরি করা। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, 'কমিশন ন্যূনতম যাচাই করার প্রয়োজন বোধ করেনি। কার নামে মামলা আছে বা কে বেঁচে আছে- সে সব না-দেখেই বিজেপির দেওয়া তালিকা ধরে নোটিফিকেশন করা হচ্ছে। মানুষ ইভিএমেই এর জবাব দেবেন।'

    বর্ধমান দক্ষিণের প্রার্থী খোকন দাসের কথায়, 'কমিশন যদি মনে। করে জোর করে গ্রেপ্তার করবে, তবে আমার কিছু করার নেই। আমি আইন হাতে তুলে নেব না, বিচার দেবে মানুষ।' অন্য দিকে, শান্তনু কোঁয়ার জানান, গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানো যদি অপরাধ হয়, তবে তিনি গ্রেপ্তার হতেও রাজি।

    তৃণমূলের যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা। তাঁর বক্তব্য, 'নির্বাচন কমিশন একটি স্বশাসিত সংস্থা। তারা আইন মেনে কী পদক্ষেপ করবে, সেটা সম্পূর্ণ তাদের এক্তিয়ার। বিজেপি কোনও হস্তক্ষেপ করে না। ২০২১-এর নির্বাচনের পরে এই জেলায় বিজেপি কর্মীদের উপরে যে অত্যাচার হয়েছে, সেই রিপোর্ট প্রশাসনের মাধ্যমেই কমিশনের কাছে পৌঁছেছে। আমাদের আলাদা করে কোনও তালিকা দিতে হয়নি।'

  • Link to this news (এই সময়)