আজ, বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। সাত জেলার মোট ১৪২টি আসনে হবে ভোটগ্রহণ। প্রথম দফায় নির্বিঘ্নেই ভোট করিয়ে লেটার মার্কস-সহ পাশ করেছে কমিশন। তবে বাংলার দ্বিতীয় দফাতে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে কড়া নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফার ভোটে মোতায়েন করা হয়েছে ২৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। থাকবেন ১৪২ জন জেনারেল অবজ়ার্ভার। এ ছাড়া পুলিশ অবজার্ভার থাকছেন ৯৫ জন। জেলা প্রশাসনের একাংশের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটে আরও কড়া কমিশন।
নদিয়ার শান্তিপুর বিধানসভার বাবলা পঞ্চায়েতের মোল্লাবেড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে ইভিএম বিকল হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে ব্যাহত ভোটগ্রহণ।
হাবরা ২০৯ নম্বর বুথ দেশবন্ধু এফপি স্কুলে ইভিএম খারাপ হয়ে যাওয়ার কারণে শুরু করা যায়নি ভোটগ্রহণ।
বুধবার সকালে ঘড়িতে সাতটা বাজতেই ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলার পুলিশ অবজার্ভার অজয় পাল শর্মা তাঁর কনভয় নিয়ে বেরোলেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, শিরাকলের দিকে চলেছে তাঁর কনভয়। সূত্রের খবর, 117 নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে আজও তিনি ফলতা-সহ বিভিন্ন বিধানসভা ঘুরবেন ।
শ্যামপুকুর কেন্দ্রের এক বুথের বাইরে অতিরিক্ত মানুষের জমায়েত দেখে ক্ষুব্ধ পুলিশ। লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে গেলেন পুলিশ কর্মীরা। ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও জমায়েত নয় বলে আবারও সতর্ক করল পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে ভাঙড়ের বিভিন্ন জায়গায় ISF ও তৃণমূলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের মাথা ফেটেছে বলে অভিযোগ। যদিও সকাল থেকে শান্ত এলাকা। বুধবার সকালে অশান্তি ছাড়াই ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে ভাঙড়ে।
সাত জেলার ১৪৪ কেন্দ্রে আজ, বুধবার দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। সাতটা বাজতে শুরু হলো ভোটগ্রহণ। প্রথম দফার মতোই দ্বিতীয় দফাতেও সকাল থেকে ভোটারদের মধ্যে ভোটদানের উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। ভোটদান শুরুর আগেই বুথের বাইরে লম্বা লাইন।
দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই দিকে দিকে অশান্তি শুরু। চাপড়ার ৫৩ নম্বর বুথের বিজেপি এজেন্টের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আহত কর্মীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে।
রাতের অন্ধকারে পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের তুল্যা গ্রামে বেশ কয়েকজনের বাড়ির দরজা ঠেলে মহিলা ভোটারদের তৃণমূলকে ভোট না দেওয়ার জন্য হুমকি ও শাসানি দেওয়ার অভিযোগ উঠল মন্তেশ্বর থানার আইসি সোমনাথ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন মন্তেশ্বরের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরির।
মক পোলিং শুরু হয়ে গিয়েছে। ভোট শুরুর আগেই বুথের বাইরে ভোটারদের লম্বা লাইন।
ভোটের দিন অভিযোগ জানানোর জন্য টোল ফ্রি নম্বর চালু করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। টোল ফ্রি নম্বরটি হলো— ১৮০০৩৪৫০০৮। সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, কোথাও কেউ কোনও হুমকির মুখে পড়লে অভিযোগ জানাতে পারবেন এই নম্বরে। অভিযোগ এলেই তৎক্ষণাৎ ফোর্স পাঠানো হবে। যে সমস্ত জায়গায় ক্লোজ় মনিটরিংয়ের প্রয়োজন, তা-ও করা হবে। ভোটারদের ভয় দেখানো বা কোনও বেআইনি কাজ হলে, কড়া ব্যবস্থা নেবে কমিশন।
দ্বিতীয় দফার ভোটে পুলিশ জেলা ভিত্তিক বাহিনী মোতায়েন চূড়ান্ত করল কমিশন। সেই অনুযায়ী—
বারাসত পুলিশ জেলায় মোতায়েন ১১২ কোম্পানি
বনগাঁ পুলিশ জেলায় ৬২ কোম্পানি
বসিরহাট পুলিশ জেলায় থাকছে ১২৩ কোম্পানি
বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট ৫০ কোম্পানি,
ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট-এ থাকবে ১৬০ কোম্পানি
সুন্দরবন পুলিশ জেলায় থাকছে ১১৩ কোম্পানি
বারুইপুর পুলিশ জেলায় মোতায়েন ১৬১ কোম্পানি
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় ১৩৫ কোম্পানি
হাওড়া গ্রামীণে থাকছে ১৪৭ কোম্পানি,
হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট-এ ১১০ কোম্পানি
কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ১৫৮ কোম্পানি বাহিনী
রানাঘাট পুলিশ জেলায় ১২৭ কোম্পানি,
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটে মোতায়েন ৮৩ কোম্পানি
হুগলি গ্রামীণে ২৩৪ কোম্পানি,
পূর্ব বর্ধমানে থাকছে ২৬০ কোম্পানি,
আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে ১৩ কোম্পানি
এ ছাড়া কলকাতা পুলিশের অধীনে মোতায়েন ২৭৩ কোম্পানি বাহিনী
ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল সাতটা থেকে। চলবে সন্ধে ছ’টা পর্যন্ত। এ দিন ভোটগ্রহণ হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে।