এই সময়: ২০১৯–এর ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের যে ঝকঝকে রেকর্ড ছিল, সোমবার সন্ধেয় সেই রেকর্ডে শুধু দাগ পড়ল এমন নয়, একই সঙ্গে সেমি হাইস্পিড এই ট্রেনের নিরাপত্তা–ব্যবস্থাও এ বার প্রশ্নের মুখে। সোমবার শোলাপুর–মুম্বই বন্দে ভারত এক্সপ্রেস সন্ধে ৭টা ৪৫ নাগাদ পুনে স্টেশনের বাইরে লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রেল পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সেন্ট্রাল রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন, পুনে স্টেশনের বাইরে একটি ‘ডায়মন্ড ক্রসিং’ পার করার সময়েই ট্রেনের একটি কামরায় একটি চাকা বেলাইন হয়ে যায়।
মোটরম্যানের বয়ান অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময়ে ট্রেনের গতি খুবই কম ছিল — ঘণ্টায় ২০ কিমি মাত্র। সে কারণেই চাকা বেলাইন হওয়ার পরেও কোনও যাত্রী হতাহত হননি। কিন্তু অনেক দুর্ঘটনা এমন হয়, যেগুলোর অভিঘাত হতাহত–র সংখ্যায় পরিমাপ করা যায় না। সোমবার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুতিকে এমনই একটি ঘটনা হিসেবে দেখছেন রেলের কর্তারা। রেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ‘ডায়মন্ড ক্রসিং’ বলতে এমন একটি ট্র্যাক ব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে দু’টি রেললাইন একই সমতলে একে অপরকে ক্রস করে। এই কারণে ওপর থেকে ওই ক্রসিংকে দেখতে হিরে অর্থাৎ ‘ডায়মন্ড’–এর মতো দেখতে লাগে।
রেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ডায়মন্ড ক্রসিংয়ে ট্রেনকে সাধারণত খুব কম গতিতে (ঘণ্টায় ২০ কিমি বা তার চেয়ে কম গতিতে) চলতে হয়। কারণ, এই ধরনের ক্রসিংয়ে ট্রেনের চাকার ‘ফ্ল্যাঞ্জ’ সহজেই দুই ট্র্যাকের গ্যাপের উপর ‘লাফিয়ে’ যেতে পারে। এর ফলেই লাইনচ্যুতি হয়। সোমবার ঠিক এমনটাই হয়েছিল। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের চালক জানিয়েছেন, তিনি নির্দিষ্ট গতি মেনে সেই অনুযায়ীই ট্রেন চালাচ্ছিলেন। ক্রসিং পার করার সময়েই একটি চাকা লাইনের বাইরে চলে যায়। রেলের কর্তারাদের মতে, পুনে স্টেশনে ইয়ার্ড রিমডেলিংয়ের অংশ হিসেবে ওই ক্রসিংটি আপগ্রেড করার পরিকল্পনা ছিল। সে কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই ক্রসিংটি দ্রুত বদলানোর আশ্বাস দিয়েছেন রেলের ট্র্যাক ইঞ্জিনিয়াররা। শুধু ওই জায়গাতেই নয়, একই সঙ্গে দেশের যে প্রান্তে যত ডায়মন্ড ক্রসিং রয়েছে, তাদের মান চিহ্নিত করে প্রয়োজনে সেগুলো বদলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বন্দে ভারত এক্সপ্রেস অত্যাধুনিক ‘কবচ’ প্রতিরক্ষা–ব্যবস্থায় সুরক্ষিত বলে এই ট্রেনের নিরাপত্তা–ব্যবস্থা নিয়ে অনেকটাই নিশ্চিন্তে ছিলেন রেলের কর্তারা। একই লাইনে দু’টি ট্রেন চলে এসে যাতে সংঘর্ষ না ঘটে এবং লাল সিগন্যাল থাকার পরেও যাতে ট্রেন সিগন্যাল অগ্রাহ্য করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করাই ‘কবচ’–এর কাজ। কিন্তু, সোমবারের ঘটনা বুঝিয়ে দিল বিপজ্জনক ট্র্যাক ক্রসিংও ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।