এই সময়, গঙ্গারামপুর: বেসরকারি আবাসিক হোস্টেলের শৌচাগারের ঘুলঘুলি ভেঙে পালানোর সময়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্য হলো ক্লাস টেনের এক পড়ুয়ার। সোমবার মধ্যরাতে ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার জাহাঙ্গিরপুর এলাকায়। মৃত জেমিস আলবাক্স হোসেন (১৬)-এর বাড়ি তপন থানার লালচন্দ্রপুর গ্রামে। রাতে ঘটনাস্থলে যায় গঙ্গারামপুর পুলিশ ও মৃতের পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পড়ুয়ার মৃত্যুতে আবাসিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন মৃত ছাত্রের পরিবার। যদিও এ দিন রাত পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
জাহাঙ্গিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ব্লুসুম অ্যাকাডেমি নামে ওই বেসরকারি হস্টেলটি আহমেদ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে ২০১৭–তে গড়ে ওঠে। পঞ্চম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২০০ পড়ুয়া আবাসিক থাকে। ভোটের জন্য কয়েক দিন বন্ধ থাকার পরে হস্টেলটি রবিবার খুললে রাতেই হস্টেলে ফেরে জেমিস। প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে সে শৌচাগারে মুখ ধুতে যায়। বন্ধুকে ফেসওয়াশ দিয়ে তাকে ঘরে যেতে বলে জেমিস। তারপরে আর খোঁজ ছিল না।
দীর্ঘক্ষণ পরে হস্টেলের বাইরে শৌচাগারের পাশে তাকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার নাক ও মুখের বেশ কিছুটা জায়গায় ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়। শৌচাগারের পাশেই থাকা ১১ হাজার ভোল্টেজের তারে ছাত্রের চুল আটকে থাকতে দেখা যায়। তাই হস্টেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শৌচাগারের পাশে থাকা হাই ভোল্টেজের তারে ইলেকট্রিক শক খেয়ে মারা গিয়েছে জেমিস।
মৃতের বাবা আক্তার হোসেন বলেন, 'প্রথমে হস্টেল কর্তৃপক্ষ ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। এখানে অত্যাচার করা হতো কি না তা বলা মুশকিল। হস্টেলের সিসিটিভি ক্যামেরা বিকল রয়েছে। তবে কিছু তো হস্টেলে হতো, তা না হলে কেন ছেলে এভাবে পালানোর চেষ্টা করবে! প্রকৃত ঘটনা কি তা সামনে আসুক। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।' হস্টেলের টিআইসি রতন রায় স্বীকার করেন সঙ্গে সঙ্গে জেমিসকে হাসপাতাল না নিয়ে যাওয়াটা ভুল হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, 'হস্টেলে কোনও মারধর করা হতো না।' এ বিষয়ে গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকার বলেন, 'প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে শৌচাগারের ঘুলঘুলি দিয়ে বেরোতে গিয়েই এই ঘটনা ঘটেছে৷ এ নিয়ে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। সবটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'