এই সময়, রায়গঞ্জ: ভোটের ডিউটিতে যাওয়ার জন্য রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬ জন সহকারী অধ্যাপককে নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন গেলেও বাকিরা না-যাওয়ায় কমিশনের কোপের মুখে পড়েছেন। ৪০ জন সহকারী অধ্যাপককে শো-কজ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়ার জন্য জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আগেই চিঠি পাঠিয়েছিলেন উপাচার্য। তার পরেও তাঁদের শো-কজ করায় প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দুর্লভ সরকার বলেন, 'রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা, পিএইচডি, পিজি, ইউজি-সহ একাধিক কোর্স চলছে। এর সঙ্গে দশ হাজার ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছিল। তার পরেও ৪০ জন অধ্যাপককে আলাদা আলাদা করে শো-কজ় লেটার পাঠিয়েছে কমিশন। ব্যক্তিগত ভাবে জবাবও দিয়েছেন তাঁরা। পুরো বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরে রয়েছে।'
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকদের ভোটের ডিউটি করা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ভোটের ডিউটি দেওয়া যাবে না বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করে। গত ২০ এপ্রিল ডিভিশন বেঞ্চ যে রায় দিয়েছিল তাতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ভোটের ডিউটিতে নিযুক্ত করা যাবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তাঁদের র্যাঙ্ক অনুযায়ী ডিউটিতে নিয়োগ করতে হবে।
সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৩ জন সহকারী অধ্যাপকের মধ্যে ৫৬ জনকে ভোটের ডিউটি দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন প্রথম দফায় কমিশনের নির্দেশ মেনে ডিউটি করেছেন। বাকি ৪০ জন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেননি। তাঁদেরই শো-কজ় করেছে নির্বাচন কমিশন।