• ভোট হচ্ছে না যুদ্ধ! সাঁজোয়া গাড়ি দেখে বিস্ময় বাসিন্দাদের
    এই সময় | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, বর্ধমান: রায়না থেকে খণ্ডঘোষ, অথবা ভাতার। আজ, বুধবার বিধানসভার শেষ পর্বের নির্বাচনের আগে সর্বত্র কৌতূহল তুঙ্গে।

    এমনিতেই প্রথম পর্বের শান্তিপূর্ণ ভোট এবং রেকর্ড শতাংশ ভোট পড়ার পরে নড়েচড়ে বসেছিলেন এই রাজ্যের মানুষ। কিন্তু তারই সঙ্গে সাধারণ ভোটারদের বিস্ময় বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের প্রতি অঞ্চলে রুট মার্চ, প্রয়োজনে অশান্ত পরিস্থিতিকে শান্ত করতে তৎপরতা। তার পরে রয়েছে সাঁজোয়া গাড়ি। সবমিলিয়ে ভোট না যুদ্ধ, সেটাই অনেকে ধরতে পারছেন না।

    রায়নার শ্যামসুন্দরের বাসিন্দা অজিত ঘোষ বলছিলেন, ‘আমার ৭১ বছর বয়স হলো। কিন্তু এমন সাঁজোয়া গাড়ি কোনওদিন দেখিনি। এই সব নাকি যুদ্ধের সময়ে ব্যবহার হয় বলে শুনেছি। এই ভোটে তা–ও দেখলাম।’ যোগ করলেন, ‘ভোট যাকে হোক দেবো, তবে কোনও অশান্তি না–হলেই ভালো।’

    গলসির পারাজের বাসিন্দা শেখ বদরে আলমের কথাতেও সেই বিস্ময়। তিনি বললেন, ‘একেবারে যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি। এত পুলিশ, এত কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনও ভোটের আগে দেখিনি। এই পর্বের ভোটের সময়ে সব শান্তিপূর্ণ থাকলেই বোঝা যাবে, এদের এনে কাজ হয়েছে। না–হলে সমস্ত প্রয়াসই বৃথা বলে প্রমাণিত হবে।’

    বর্ধমান শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মঙ্গলবার সকাল থেকে দেখা গিয়েছে সাঁজোয়া গাড়ির টহলদারি। সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি। এক নজরে দেখলে মনে হতে পারে, কোনও বড়সড় ঘটনা ঘটতে চলেছে। তাই পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে সারমিক বাহিনী। আলমগঞ্জের বাসিন্দা মিঠুন সিংয়ের মন্তব্য, ‘ভোটের আগে এত কিছু। ভোটের পরে কী হবে! ভোট কাকে দেবো, এ বার সেটাই তো গোলকধাঁধার মতো হয়ে যাচ্ছে।’

    মেহেদিবাগানের বাসিন্দা রূপসা খাতুন বলছেন, ‘জেলাশাসক, ভোটের প্রার্থীরা, পুলিশকর্তারা এসেছেন। প্রশাসন বলেছে, ভোটের দিনে কোনও অশান্তি হলে ১৯৫০–এ ফোন করতে। রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন তাঁদের প্রতি আস্থা রাখতে। সবমিলিয়ে এ বারের ভোটকে ভোটের মতোই লাগছে।’ যোগ করলেন, ‘এত দিন ভোট দিচ্ছি, কিন্তু এই ধরনের গাড়ি বা এত পুলিশ দেখিনি।’

    পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল এ দিন এক ভিডিয়ো–বার্তায় বলেন, ‘প্রত্যেকের কাছে অনুরোধ, নিজের ভোট নিজে দিন। গণতন্ত্রের এই উৎসবে অংশ নিন। কোথাও কোনও সমস্যা হলে ১৯৫০–এ ফোন করুন। নাম বা পরিচয়, কিছুই বলতে হবে না। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেব।’

  • Link to this news (এই সময়)