বুথ পরিদর্শনে বেরিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি যা বলছে, তা-ই করছে কমিশন। বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘ওরা পোস্টার, ব্যানার সব ছিঁড়ে দিচ্ছে। এ ভাবে ভোট হয় নাকি! টেরোরিজ়ম চলছে!’ ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতার প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনিও সকালে বুধ পরিদর্শনে বেরিয়েছেন। দাবি করেন, ‘সব ভোট বিজেপিতে পড়ছে।’
বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণ পরেই কলকাতার মেয়র ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিমের চেতলার বাড়িতেও যান মমতা। তৃণমূলনেত্রী অবশ্য গাড়ি থেকে নামেননি। প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, সাদা এসইউভি-র সামনের আসনে বসে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গাড়ির সামনে দাঁড়িয়েই তাঁর সঙ্গে কিছু ক্ষণ কথা বলছেন ফিরহাদ।
চেতলা মমতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। এই কেন্দ্রে ভোটের কাজকর্মের দায়িত্ব ফিরহাদের হাতেই দিয়েছিলেন মমতা। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, ভোট কেমন চলছে, কোন বুথের কেমন পরিস্থিতি, এ সব ব্যাপারেই তিনি ফিরহাদের থেকে খোঁজখবর নিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার মধ্যরাতে রাতে ফিরহাদের চেতলার বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী হানা দিয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। দাবি, বাহিনীর সঙ্গে ছিলেন পুলিশ পর্যবেক্ষকও। ফিরহাদের বাড়িতে হানার বিষয়টি মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলার শুনানিতে উল্লেখও করেছেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিরহাদ বলেছেন, ‘চেতলায় বোমা-গুলি তো দূরের কথা, একটা ইটও কোনওদিন পড়েনি। এই কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা বিজেপির পক্ষে ক্ষতিকর হচ্ছে। কারণ, মানুষকে ভয় দেখিয়ে মন জয় করা যায় না। আর শান্তিপূর্ণ এলাকায় এই অতিসক্রিয়তা মানুষের মনে ভয় তৈরি করছে। ভাবছেন, যদি সত্যি সত্যি আসে, তাহলে কি মিলিটারি রুল হবে?’ যদিও এ বিষয়ে কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।