• ‘আমি কিন্তু এখনও চেয়ারে আছি’, ভবানীপুরের বুথে রণংদেহী মমতা
    প্রতিদিন | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোট দ্বিতীয়ায় অশান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তেমনটা যাতে না হয়, সেজন্য তৃণমূল নেত্রী নিজেই সকাল সকাল ভবানীপুরের বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছেন। চেতলা, চক্রবেড়িয়ার বুথে বুথে ঘুরছেন। চক্রবেড়িয়ার একটি বুথে বেশ কিছুক্ষণ বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখান থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অত্যাচার’ নিয়ে সরব হন। মনে করিয়ে দেন তাঁর নিজের পদের কথা। মমতার কথায়, ‘‘মনে রাখতে হবে, আমি কিন্তু এখনও চেয়ারে আছি।”

    মঙ্গলবার রাত থেকে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় পুলিশ, বাহিনীর তল্লাশির খবর পাওয়া গিয়েছে। বুধ সকালে প্রথমেই তা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এপ্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন ভবানীপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসুর কথা। চক্রবেড়িয়ায় তাঁরই পার্টি অফিসের কাছের বুথটিতে গিয়ে কিছুক্ষণ বসেন মমতা। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলর অসীম বসুর বাড়ি গিয়েও খোঁজখবর নিয়েছেন। পরে তিনি অসীম বসুর কার্যালয়ে গিয়ে বসেন।

    সেখানে তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘‘কাল রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ বাবাইয়ের (অসীম বসু) বাড়িতে যায় বাহিনী। ওর স্ত্রী বাচ্চাটাকে নিয়ে বাড়িতে একা ছিল, ও দলের কাজে বাইরে ছিল। সেটা ওর স্ত্রী জানায়। তারপরও ওরা কথা শোনেনি। বাড়ির ভিতর ঢুকে হুমকি দিয়েছে, বাবাই যেন ভোটের দিন কোনও কাজ না করে। মোবাইলও কেড়ে নেয়। এভাবে কি ভোট হয়? এখানে গুন্ডারাজ চলছে? একটা কথা মনে রাখবেন, আমাদের কর্মীরা মৃত্যুবরণ করবে, তবু কারও কাছে মাথানত করবে না।”

    নিজের মোবাইলে একটি ছবি দেখিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘‘দেখুন রাতে আমাদের কর্মীদের কেমন মেরেছে। এটা কেমন গুন্ডামি চলছে? এভাবে ভোট হয় না। এটা গণতন্ত্রের উৎসব। বিজেপি গণতন্ত্রকে হত্যা করছে।” তাঁর এই ছবি ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে বয়াল-২ বুথের ছবিটা যেন ফিরিয়ে আনল। সেবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভেঙে যায় তিনি হুইল চেয়ার নিয়েই বয়ালের বুথটিতে গিয়ে বসেছিলেন। মমতা এখানে থাকাকালীন একই বুথে পৌঁছে যান বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ৫০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে তিনি পরিদর্শন সেরে ফিরে যান।
  • Link to this news (প্রতিদিন)