‘সমূহ পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক নারীর লড়াই’, ‘বাঘিনী’ সম্বোধনে মমতা স্তুতি মিমির
প্রতিদিন | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
রাজনীতি থেকে দূরত্ব বাড়ালেও ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই রয়েছেন, বুঝিয়ে দিলেন মিমি চক্রবর্তী। বুধবার বিধানসভা নির্বাচনের শেষ তথা দ্বিতীয় দফার ভোট। রাজ্যে প্রথম দফার পর ‘পাখির চোখ’ ছিল ২৯ এপ্রিলের ভোটমহারণের দিকে। একুশে পদ্ম ফোটাতে ব্যর্থ বিজেপিও এবার গোড়া থেকেই কোমর বেঁধে পিচে নেমে পড়েছে। ফলত, চলতিবারের বিধানসভা নির্বাচনের মার্কশিটের দিকে যে গোটা দেশ তাকিয়ে, তা বলাই বাহুল্য। ছাব্বিশে ‘বাংলার মসনদ’ দখলে যখন কেউ কাউকে সূচাগ্র মেদিনি ছাড়িতে নারাজ, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাঘিনী’ সম্বোধন করে মিমি চক্রবর্তী রাজ্যবাসীকে মনে করিয়ে দিলেন, সমূহ পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক নারীর একক লড়াইযাপনের কথা।
বুধবার সকাল থেকেই বুথ পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লড়াই আর মমতা যেন একে-অপরের সমার্থক। জনসাধারণের অধিকারের জন্য সিঙ্গুরের মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকা, অসাম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে ত্রিশ বছরের বামদূর্গ ধসিয়ে ‘আম’ রাজনৈতিক কর্মী থেকে আজ তিনি জননেত্রী। শেষ দফা বিধানসভা নির্বাচনের আগের রাতে বাংলার জনতাকে আরও একবার সেকথাই মনে করিয়ে দেন মিমি চক্রবর্তী। মঙ্গলবার রাতে যখন রাজ্যজুড়ে ‘ভোট-মহালয়া’র আবহ, তখন প্রকাশ্যেই বাঘিনী সম্বোধন করে মমতা স্তুতি মিমির। এক্স হ্যান্ডেলে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একজন নারীই পিতৃতন্ত্রকে নাড়া দিয়েছিলেন। আরেক নারী হিসেবে তাঁর এই সাহসিকতাকে স্যালুট করুন। এটা কোনও রাজনীতি নয়। এক বাঘিনীর লড়াই…।’
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিটে জিতে যাদবপুরের সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন মিমি চক্রবর্তী। সেই সূত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই অভিনেত্রীর রাজনৈতিক ইনিংসের শুরুয়াত। বছর তিনেক সাংসদ পদে থাকার পর যদিও গত চব্বিশ সালে রাজনীতি থেকে বাণপ্রস্থ নিয়েছেন মিমি, তবে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে যে তিনি ‘প্রিয় দিদি’র পাশেই রয়েছেন, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যাদবপুরের প্রাক্তন তারকা সাংসদ। দীর্ঘ দু’মাস ধরে প্রচারের পিচে ঝোড়ো ব্যাটিং করার পর বুধবার ব্যালটে ভাগ্যপরীক্ষার পালা। আমজনতার পাশাপাশি তারকারাও গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল। এমতাবস্থায় মিমির পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে দাবানল গতিতে।
এর আগে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েই মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মিমি বলেছিলেন, “আন্তরিক কৃতজ্ঞতা আমার নেত্রী, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, তাঁর স্নেহের হাত আমার মাথায় সর্বক্ষণ রাখার জন্য। আগামী দিনে আমি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকি বা না থাকি, আমার কাজের মাধ্যমে আমি নিশ্চিতরূপে মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় থাকব।”