টেলিভিশনে টিকে থাকা কতটা কঠিন? নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী রিমঝিম মিত্র।
‘দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও হেরে যাওয়ার ভাবনা ভাবতে নেই। ধৈর্য ধরতে হবে’, বলছিলেন রিমঝিম মিত্র। অভিনয় জীবনের অনেকগুলো বছর পেরিয়ে এসেছেন। আপাতত স্টার জলসার ‘কম্পাস’ ধারাবাহিকের ‘মোহিনী’। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় শিখেছেন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও হেরে যাওয়ার ভাবনা ভাবতে নেই। টিকে থাকার লড়াই কীভাবে লড়তে হয়? রিমঝিমের উত্তর, ‘ধৈর্য ধরতে হবে। লাইফস্টাইল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। একটা বড় গাড়ি নিয়ে বেরলাম। দু’মাস পর কাজ না থাকলে আমাকে অটো চালাতে হচ্ছে, সেটা করার তো দরকার নেই। মন নিয়ন্ত্রণে রাখলে সারভাইভ করা সহজ হয়।’ আর মেকআপরুম পলিটিক্স? তা এড়িয়ে টিকে থাকা কতটা কঠিন? রিমঝিম স্পষ্ট বললেন, ‘আমার পিছনে কে কী বলছে সেটা তো আমি কন্ট্রোল করতে পারব না। এটা আমাকে প্রভাবিত করে না। আমার সামনে যতক্ষণ কেউ খারাপ কথা না বলছেন, আমি অন্য কারো কথা শুনে তাকে খারাপ ভাবব, এমন নয়।’
লাঞ্চ শেষ করে গুছিয়ে বসলেন রিমঝিম। ফ্লোরে এখনও ডাক আসেনি। তাই হাতে কিছুটা সময় রয়েছে। ‘মোহিনী’কে কীভাবে তৈরি করছেন? শাড়ির আঁচল গুছিয়ে নিয়ে অভিনেত্রী বললেন, ‘মোহিনীর মোহে বাড়ির আবহাওয়া এখন গরম হয়ে উঠছে। বাড়ির ছোট ছেলেকে বিয়ে করে এই বাড়িতে ঢুকে পড়েছে মোহিনী। ছেলেটি মোহিনীর থেকে বয়সে অনেকটা ছোট। চরিত্রটা কীভাবে লেখা হচ্ছে, সেটা আগে জেনে নিয়েছি। সেই অবয়বটা পাওয়ার পর আমি নিজের মতো করে মোহিনীকে তৈরি করছি। এখানে যে আমার বর হয়েছে, সে বয়সে অনেক ছোট। ফলে অ্যাপ্রোচটা একটু আলাদা রাখছি’, বললেন অভিনেত্রী।
মোহিনী নেগেটিভ চরিত্র। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় পজিটিভ ফিডব্যাক পেয়েছেন বলে জানালেন রিমঝিম। সোশ্যাল মিডিয়া আপনাকে কতটা প্রভাবিত করে? রিমঝিমের উত্তর, ‘মায়ের কাছে বকুনি খাওয়ার পর নেগেটিভ কমেন্ট দেখলে মনে হয়, এর থেকে খারাপ মানুষ আর হয় না। আর যেদিন মুড ভালো থাকে, সেদিন কোনো নেগেটিভ কমেন্ট চোখে পড়লে মনে হয় দর্শক তো এসব বলবেন, আর কারা বলবেন? (হাসি)’
টেলি পাড়ায় ইদানীং দু’মাসেও ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যায়। রিমঝিম অন্য চিত্র দেখে বড় হয়েছেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে কি আশঙ্কা তৈরি হয়? অভিনেত্রী বললেন, ‘টানা পাঁচ, ছ’বছর ধারাবাহিক চলতে দেখেছি আমি। আসলে অভিনেতাদের অনিশ্চয়তাটা টেকনিশিয়ানদের থেকে বেশি। কারণ অভিনেতাদের মানিয়ে নেওয়ার একটা ব্যাপার থাকে। টেকনিশিয়ানদের একটা কাজ শেষ হলে আর একটা কাজে ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণের পর শ্যুটিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরালো করার দাবি উঠেছিল। বাস্তব চিত্রটা কেমন? শ্যুটিং ফ্লোরে বসে রিমঝিম বললেন, ‘আমার ভাগ্য ভালো, এমন পরিস্থিতিতে আমি পড়িনি। একটা প্রাণ চলে গেল। এখন আমরা নড়ে বসছি। সত্যি বলতে, একেবারেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে না, তা নয়। কমতি তো আছেই। কিন্তু সকলে সকলের খেয়াল রাখে। আমরা এটাই স্বাভাবিক ভাবতাম। একটা বড় সংকট না এলে, আমরা হয়তো অনুভবও করি না সমস্যা কতটা গুরুতর। ওই ঘটনার পর আমি যেখানে যেখানে কাজ করেছি বেশি ব্যাক আপ দেখছি।’