২০২৫ সাল। পরিচালক অর্জুন দত্তের জীবনের এমন একটি বছর, যে বছরে একদিকে যেমন জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন, তেমনই আবার মা-দাদাকেও হারিয়েছেন। এখন বাবাকে নিয়েই সময় কাটে তাঁর। কিছু দিন আগেই মুক্তি পেয়েছে অর্জুন পরিচালিত ছবি ‘বিবি পায়রা’। ছবিটি বক্স অফিসে খুব ভালো সাড়াও ফেলেছে। তবে এরকম একটা সময়েই দু’দিন ধরে শরীরটা একদম ভালো নেই অর্জুনের। তাই নন্দনেও যেতে পারেননি তিনি। জ্বর গায়ে শুয়ে শুয়ে শুধু ভেবেছেন, মা বেঁচে থাকলে এখন কী করতেন তাঁর জন্য?
অসুস্থতার সময়ে মাকে আরও বেশি করে মিস করছেন অর্জুন। তিনি বলেন, ‘বাবার নিজেরই শরীর খারাপ, তাও আমার পাশে বসে বার বার খোঁজ নিচ্ছে। মা আর দাদা চলে যাওয়ার পর থেকে আমি আর বাবা দুটো ভাঙা মানুষ। শরীর খারাপ হলেই মায়ের না-থাকাটা গলার কাছে দলা পাকিয়ে ওঠে।’
তবে এই মিস করা শুধু আদর করে খাইয়ে দেওয়া নয় বা মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে বলে নয়, বরং তাঁর উপস্থিতিকেই আরও বেশি করে মিস করছেন। অর্জুনের কথায়, ‘মিস করি ঘরের ভিতর তাঁর হেঁটে বেড়ানো। চটির আওয়াজ। চুলের সেই চেনা গন্ধটা।’
পরিচালক হিসেবে তাঁর একটা অদ্ভুত যন্ত্রণা তাঁর মধ্যে রয়েছে। যে কষ্ট কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে তাঁকে। অর্জুনের কথায়, ‘সিনেমার জন্য কত মুখ শুট করলাম, যারা কেউ সত্যি নয়। DOP-র সঙ্গে ফ্রেম ঠিক করলাম, টেকের পর টেক নিলাম। আর মা, আমার মা- তাঁর একটা ভিডিয়োও নেই আমার কাছে। এক সেকেন্ডেরও না। একটাও না। কী স্টুপিড না আমি?
মনটা যখন হু হু করে ওঠে, একবার দেখারও উপায় নেই তাঁকে। একটা ছোট্ট দু’মিনিটের ভিডিয়ো থাকলেও তো মন ভরে বার বার দেখতে পারতাম, গলাটা শুনতে পেতাম। খুব মনে পড়ছে মায়ের সেই স্ট্রেট চুল। আর চুলের সেই মিষ্টি গন্ধটা। এই ছবিটা দিলাম। চুলে ফুল গুঁজে দিয়েছিলাম, নিজের হাতে। কিছু কিছু দিনে এই একটা ছবিই বেঁচে থাকার মতো। কিছু কিছু দিনে এটাই শ্বাস নেওয়ার মতো।’