বীরভূমের সদর সিউড়িতে সোমবার রাত থেকে এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন দৃশ্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহরের পেট্রোল পাম্পগুলিতে আচমকা মানুষের ঢল নেমেছে। বাইক থেকে চারচাকা, জ্বালানি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। হঠাৎ কেন এই তেলের আকাল, তা নিয়ে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে রহস্য ও তীব্র চাঞ্চল্য।
সোমবার রাতে দেখা যায়, সিউড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা প্রধান দু'টি পেট্রোল পাম্পের মধ্যে একটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে সমস্ত চাপ গিয়ে পড়েছে অন্য পাম্পটির উপর। মঙ্গলবারও একই চিত্র বজায় ছিল, জ্বালানি নিতে আসা ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পাম্প কর্মীদের। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর অনেকেই বিরক্ত হয়ে শহরের বাইরে ১৪ নং জাতীয় সড়ক সংলগ্ন পাম্পগুলির দিকে ছুটছেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ এই পরিস্থিতির কারণ কী? সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানির অভাব সংক্রান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। এমনকি তেল সরবরাহকারী সংস্থাগুলির পক্ষ থেকেও ঘাটতির কোনও খবর মেলেনি। তা সত্ত্বেও কেন পাম্প বন্ধ রাখা হচ্ছে বা কেনই বা মানুষ এভাবে তেলের জন্য হাহাকার করছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই পরিস্থিতির নেপথ্যে কাজ করছে এক প্রবল 'ভোট পরবর্তী আতঙ্ক'। সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে রটে গিয়েছে যে, ভোট মিটতেই জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। সেই আশঙ্কায় অনেকেই আগেভাগে গাড়ির ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে রাখা বা অতিরিক্ত তেল মজুত করার চেষ্টা করছেন। এই গুজবের জেরেই চাহিদার তুলনায় জোগানে টান পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শহরের প্রাণকেন্দ্রের পাম্পগুলি এভাবে বন্ধ বা ভিড়ে ঠাসা থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনও বার্তা না মেলায় আতঙ্ক আরও ছড়িয়েছে। সিউড়ির এই ‘তেল-বিভ্রাট’ স্রেফ সাময়িক সমস্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনও বড় কারণ রয়েছে, এখন সেটাই দেখার।