ভোট দিতে না পারলে গলায় দড়ি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ গাড়ি চালকদের। ওই চালকদের ভোটের ডিউটি পড়েছে কৃষ্ণনগর ১ নম্বর ব্লকের। তাঁদের অভিযোগ, পোস্টাল ব্যালটে তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। এও অভিযোগ, তাঁদের জানানোই হয়নি, কবে, কখন পোস্টার ব্যালটে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। এই অভিযোগ তুলে বুধবার জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন ভোটের ডিউটিতে থাকা গাড়ি চালকেরা।
গাড়ি চালকদের আরও অভিযোগ, নিজেদের বুথে ভোট দিতে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকালে কলকাতা-শিলিগুড়ি ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ভোটের ডিউটিতে থাকা গাড়ি চালকরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে তাঁদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। ভোট দিতে না পারলে গলায় দড়ি দিয়ে তাঁরা আত্মহত্যা করার হুঁশিয়ারি দেন।
ঝিটকেপোতার জিকোদা বুথের এক ভোটার তথা গাড়ি চালক বলেন, ‘আমি ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারি, আমার ভোট পড়ে গিয়েছে। কী করে ভোট হয়ে গেল? আমি সই করিনি, টিপছাপও দিইনি। আমি ভোট দেবো। দিতে না পারলে গলায় দড়ি দেব।’
নান্টু শর্মা নামে অন্য এক গাড়ি চালকের অভিযোগ, ‘২০ এপ্রিল থেকে আমরা বিডিও অফিসে ডিউটি করছি। ২৭ এপ্রিল অন্য জায়গায় পাঠানো হয়। কী ভাবে, কোথায় ভোট দেব জানতে চাওয়া হলে আমায় বলা হয়, নিজেদের ভোট বুথে গিয়ে ভোট দিতে হবে। কখন পোস্টাল ব্যালট হবে, কে পোস্টাল ব্যালট দেবে, সেই সব জানানোই হয়নি। আমরা নিজেদের বুথে ভোট দিতে চাই। না হলে আবার রাস্তা অবরোধ করব।’
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী সাধন ঘোষ। তিনি সরাসরি কৃষ্ণনগর এক নম্বর ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের উপর গোটা দোষ চাপিয়েছেন। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, ‘তৃণমূলের হয়ে কাজ করতেন বিডিও। আমরা কেউ জানতে পারেনি কখন পোস্টাল ব্যালট হয়ে গিয়েছে। এখানে কমবেশি ৪০০ বেশি গাড়ি চালক রয়েছে। এখন অবরোধ হতে বিডিও বলছেন ১ ঘণ্টার মধ্যে ভোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একবার ভোট হয়ে গেলে পোস্টাল ব্যালটে কী ভাবে ভোট দেওয়া যাবে? আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে বিডিও সাহেবের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাব।'
একই সঙ্গে বিজেপি প্রার্থীর দাবি, ১ নম্বর ব্লকে যে সব বয়স্ক ব্যাক্তি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন, সেই ভোট পুনরায় করতে হবে।
গাড়ি চালকদের অভিযোগ সম্পর্কে তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, ‘এই রকম অভিযোগ এই প্রথম শুনলাম। ওঁদের জন্য পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল কি না সেটা জানতে হবে। ভোটই দেননি অথচ ভোট হয়ে গিয়েছে এমন অভিযোগ এই প্রথম শুনলাম।’
এই বিষয়ে নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লী জানান, ১ নম্বর ব্লকের যে সব অফিসার আছেন তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।