• ‘বাবা, খুব মজা হয়েছে...’, তারপরেই বিকট আওয়াজ...পরের ফোনে এল ছেলের মৃত্যুর খবর
    এই সময় | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • আইপিএল-এর ম্যাচ দেখে মোটরবাইকে চড়ে ফিরছিল নাবালক ছেলে। ফেরার পথে ফোনে বাবার সঙ্গে গল্প করছিল। আর কয়েকদিন পরেই ছিল তার জন্মদিন। ম্যাচ দেখার আনন্দের কথা বাবাকে জানিয়ে, আবদার করেছিল বড় করে জন্মদিন পালনের। বাবা বলেছিলেন, বাড়ি ফিরে না আসা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে। কিন্তু তার মধ্যেই ঘটে গেল বড় দুর্ঘটনা। ট্রাকের ধাক্কায় মারা গেল সেই কিশোর। তার সঙ্গে ছিল তারই এক তুতো ভাই, সেও মারা গিয়েছে। সোমবার, দিল্লির অশোকা রোডের উপর ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

    সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ সুমিত ভাটিয়া তাঁর ছেলে অভবকে (১৪) ফোন করেন। অভব তখন তার তুতো ভাই যজ্ঞ (২০)-র সঙ্গে ছিল। সুমিত জানাচ্ছেন, অভব বলেছিল, বাবা খুব আনন্দ করেছি, আধ ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি পৌঁছে যাব। সেই সময়ে যজ্ঞর মোটরবাইকের পিছনে বসেছিল অভব।

    ছেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন সুমিত। তিনি জানাচ্ছেন, ছেলে আইপিএল-এর ম্যাচ দেখে খুব খুশি ছিল। ক্রিকেটার কেএল রাহুলের সঙ্গে সেলফি তুলেছিল তারা। তা নিয়ে খুবই খুশি ছিল তারা। ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতার কথা ফোনে তাঁকে শোনাচ্ছিল ছেলে। সুমিতের দাবি, সেই সময়েই হঠাৎ তীব্র একটি শব্দ শোনেন তিনি। তারপরেই সব চুপ হয়ে যায়। বার বার ছেলের নাম ধরে ডেকেও তিনি সাড়া পাননি।

    এর কিছুক্ষণ পরে তিনি ফের ছেলের ফোনে কল করেন। তখন এক অপরিচিত ব্যক্তি ফোন তুলে জানান ওই বাইক দুর্ঘটনায় পড়েছে। তাঁকে বলা হয়, অভব এবং যজ্ঞ (সুমিতের ভাইপো) রাস্তায় পড়ে রয়েছে। দিল্লির অশোকা রোডের উপর একটি ট্রাক তাদের পিষে দিয়েছে বলে জানানো হয়।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে মর্গের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সুমিত। আর কয়েকদিন পরেই ছিল অভবের জন্মদিন, সেই প্রস্তুতির কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন তিনি। শোকে পাথর যজ্ঞের বাবাও। যজ্ঞ ক্রিকেট অন্ত প্রাণ ছিলেন। কলেজের ক্রিকেট টিমেও খেলতেন তিনি। একই পরিবারের দুই জন এ ভাবে মারা যাওয়ায় শোকের ছায়া গোটা পাড়ায়।

    পুলিশ ট্রাকের খোঁজ পেয়েছে। চালকের খোঁজ চলছে।

  • Link to this news (এই সময়)